দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চালকরা তেল পাচ্ছেন না। কোথাও ‘তেল নাই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলছে, আবার কোথাও সীমিত পরিসরে বিক্রি হচ্ছে। এতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও নৌযান চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। দাম বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে মানুষ বেশি করে তেল কিনতে শুরু করেছে। ফলে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গিয়ে দেশের মজুত কমে গেছে।
রাঙামাটিতে কয়েক দিন ধরে অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজেলও সীমিত পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে। এতে নৌযান চালকরা বিপাকে পড়েছেন। জয়পুরহাটে বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে। খুলনায় ডিপোতে মজুত থাকলেও পাম্পে চাহিদার তুলনায় ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।
বরিশালে অকটেন সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রলও ফুরিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ময়মনসিংহে বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। রাজশাহীতে তেল নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সিলেটে তেল নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ফিলিং স্টেশন মালিকরা ধর্মঘটও পালন করেছেন। রংপুরেও পেট্রল ও অকটেনের সংকট তীব্র।
চালকরা বলছেন, প্রতিদিনের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। কেউ কেউ খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। কৃষি খাতেও এর প্রভাব পড়ছে। সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন বলছে, সংকট মোকাবিলায় রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তবে অনেকেই অভিযোগ করছেন, সরবরাহ কম হওয়ায় চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। জেলা প্রশাসকরা আশ্বাস দিয়েছেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।