সর্বশেষ

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ

দুই মাসেও জামিন মেলেনি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৪
দুই মাসেও জামিন মেলেনি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের

সাংবাদিক আনিসুর রহমান আলমগীর, যিনি আনিস আলমগীর নামেই অধিক পরিচিত, গ্রেপ্তারের দুই মাস পরও জামিন না পাওয়ায় আইনি ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে তাকে টার্গেট করা হয়েছে। এতে করে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিসর শঙ্কুচিত হয়েছে বলে মতামত বিশ্লেষকদের।

 

গত ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। মধ্যরাতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’-এর সদস্য আরিয়ান আহমেদ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অন্য আসামিরা হলেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, মারিয়া কিসপট্টা ও উপস্থাপক ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ। অভিযোগে বলা হয়, তারা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্রে জড়িত এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দিয়েছেন।

 

এ মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর আনিস আলমগীরকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাবন্দি। তবে একই মামলার অন্য আসামিরা জামিনে মুক্ত বা গ্রেপ্তার এড়ানোর তথ্য সামনে আসায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলছেন তার স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরী। তার প্রশ্ন, “আনিস আলমগীর কি টেরোরিস্ট, না উনি কোনো উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন? তাহলে কেন তাকে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো?”

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আগে দাবি করেছিলেন, স্বাধীন মত প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পরিবার বলছে, বাস্তব চিত্র তার বিপরীত। শাহনাজের ভাষ্য, টেলিভিশন টকশো ও ফেসবুক পোস্টে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে মতামত দেওয়ার কারণেই তার স্বামীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

 

এদিকে ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে। ২৫ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করলে ২৮ জানুয়ারি আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরিবার বলছে, সাংবাদিক কোটায় পাওয়া একটি প্লট বিক্রির অর্থকে ‘অবৈধ সম্পদ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সাধারণত রাষ্ট্র মামলা করে; এখানে একজন ব্যক্তির করা মামলায় এমন গুরুতর ধারায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ড প্রশ্নবিদ্ধ। নিম্ন আদালতে জামিন না মেলায় তারা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন; সেখানে জামিন শুনানি নির্ধারিত রয়েছে।

 

দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করা আনিস আলমগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবেও যুক্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে; তবে দীর্ঘদিন জামিন না মেলা এবং একাধিক মামলার ধারাবাহিকতা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আইপিআই’র

নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও সহিংসতার আশঙ্কা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আইপিআই’র

সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’

টিআইবি’র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইন্টিনের সতর্কবার্তা জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

টিআইবি’র প্রতিবেদন ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

টিআইবি’র বিবৃতি গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

আরো একটি কালো আইন আনছে অন্তর্বর্তী সরকার

সম্প্রচার অধ্যাদেশ ২০২৬ আরো একটি কালো আইন আনছে অন্তর্বর্তী সরকার

প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর

প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর