ঢাকায় শুরু হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন পরিষদের ৪৪তম বার্ষিক অধিবেশন। আগামী ১০ ও ১১ এপ্রিল রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ৯ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিলি ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাত শতাধিক শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক অংশগ্রহণ করবেন, যা আয়োজনটিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবে।
সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাট্যব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদার। এ বছর গুণী-সম্মাননা ‘রবীন্দ্রপদক’ প্রদান করা হবে অধ্যাপক সৈয়দ আকরম হোসেনকে।
১০ এপ্রিল সকাল ১০টায় বোধন সংগীত ‘আমি মারের সাগর পাড়ি দেব’ পরিবেশনের মাধ্যমে মূল আয়োজন শুরু হবে। একই দিন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কিশোর ও সাধারণ বিভাগে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা দুইটি মঞ্চে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। বাছাই পর্বে প্রায় চার শতাধিক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
দুই দিনের সান্ধ্য অধিবেশনে গীতি-আলেখ্য, আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার আয়োজন থাকছে। প্রথম দিনের সন্ধ্যায় বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নজরুলসংগীতের একটি পর্ব। দ্বিতীয় দিন সকাল সাড়ে ১১টায় ‘বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সংগীত’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নেবেন।
এবারের অধিবেশন উপলক্ষে প্রকাশিত হচ্ছে প্রবন্ধ সংকলন ‘সংগীত সংস্কৃতি’, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সৃষ্টিকর্মের নানা দিক নিয়ে বিশিষ্টজনদের লেখা স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমের সংক্ষিপ্ত বিবরণও উপস্থাপন করা হবে।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান বৈশ্বিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে মানবিক মূল্যবোধ, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগ্রত করতে রবীন্দ্রসংগীতের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই এবারের সম্মেলনের আয়োজন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে শিল্পী জাহিদুর রহিমের স্মরণে প্রতিষ্ঠিত এ সংগঠনটি বর্তমানে দেশের ৮২টি শাখার মাধ্যমে রবীন্দ্রসংগীত চর্চা ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।