কলকাতার নতুন শেরিফ হিসেবে মনোনীত হয়েছেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক গৌতম ঘোষ। শুক্রবার সরকারি চিঠির মাধ্যমে এই অরাজনৈতিক ও সম্মানীয় পদের বিষয়টি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বসন্ত চৌধুরী কিংবা রঞ্জিত মল্লিকের মতো কিংবদন্তি অভিনেতাদের পর এবার চলচ্চিত্র জগতের আরেক নক্ষত্র এই আলঙ্কারিক পদের দায়িত্ব পেলেন। পদের খবরটি পাওয়ার পর থেকেই সংস্কৃতি মহলে আনন্দের জোয়ার বইছে। বিশেষ করে অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় প্রবীণ এই পরিচালককে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে যোগ্য ব্যক্তিকেই এই যোগ্য সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে এবং গৌতম ঘোষের প্রতি তার অগাধ শ্রদ্ধা রয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টের সুপারিশ এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুমোদনে প্রতি বছর শহরের একজন বিশিষ্ট নাগরিককে এক বছরের জন্য শেরিফ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সাধারণত হাইকোর্ট তিনজনের একটি প্যানেল তৈরি করে রাজ্যপালের কাছে পাঠায় এবং সেখান থেকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন সম্পন্ন হয়। ভারতের প্রধান শহরগুলোর মধ্যে বর্তমানে কেবল কলকাতা ও মুম্বাইয়েই এই ঐতিহ্যবাহী পদটি টিকে রয়েছে। ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘মনের মানুষ’ কিংবা ‘শঙ্খচিল’-এর মতো কালজয়ী ছবির নির্মাতা গৌতম ঘোষ বরাবরই নিজেকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে রেখেছেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
শেরিফ হিসেবে মনোনীত হওয়ার খবরটি যখন আসে তখন গৌতম ঘোষের বাড়িতে খুশির আমেজ ছিল। বিদেশ থেকে আসা তার কন্যা আনন্দী ঘোষও বাবার এই অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত। তবে পরিচালক নিজে এই প্রাপ্তিতে কিছুটা বিড়ম্বিত ও আনন্দিত দুই-ই। তিনি বর্তমানে চেন্নাই যাচ্ছেন তার পুরনো কিছু ছবির পুনরুদ্ধারের কাজে। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও শহরের ঐতিহ্য নিয়ে তার গভীর ভাবনার কথা ফুটে উঠেছে তার কথায়। তিনি জানিয়েছেন যে কলকাতার অনেক পুরনো ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। যদি তার পদের ক্ষমতা অনুযায়ী সুযোগ থাকে তবে তিনি অবশ্যই শহরের সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের জন্য কাজ করবেন।
রাজনীতি নয় বরং সিনেমা নিয়েই সারা জীবন ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করা এই পরিচালক চেন্নাই থেকে ফিরেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন। তার কাজের পরিধি এবং ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে বিশদে জানার পর তিনি শহর ও কলকাতাবাসীর জন্য গঠনমূলক কিছু করার পরিকল্পনা করবেন। অরাজনৈতিক এই সম্মানের মাধ্যমে গৌতম ঘোষের শিল্পসত্তা যেমন স্বীকৃতি পেল তেমনি শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান পাওয়ার পর কলকাতার শেরিফ হিসেবে তার এই নতুন যাত্রা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।