এক সময় দেশের প্রতিটি বড় উৎসব মানেই ছিল টেলিভিশন পর্দায় চঞ্চল চৌধুরীর নাটকের জয়জয়কার। সময়ের বিবর্তনে অভিনয়ের মাধ্যম বদলালেও দর্শকের কাছে তার জনপ্রিয়তায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আর বড় পর্দায় চঞ্চল চৌধুরী মানেই এক বিশেষ আকর্ষণ।
আসন্ন ঈদুল ফিতরে তার ভক্তদের জন্য থাকছে বিশাল চমক, কারণ এবার তিনটি ভিন্ন ঘরানার সিনেমায় বিভিন্ন রূপে হাজির হচ্ছেন এই শক্তিমান অভিনেতা। রেদওয়ান রনির 'দম', তানিম নূরের 'বনলতা এক্সপ্রেস' এবং রায়হান রাফীর 'প্রেশার কুকার' সিনেমায় চঞ্চলের উপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্রপাড়ায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে তানিম নূর নির্মাণ করেছেন 'বনলতা এক্সপ্রেস'। এই সিনেমার বিশেষত্ব হলো এর অধিকাংশ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে চলন্ত ট্রেনের ভেতরে। নিজের চরিত্র ও গল্প প্রসঙ্গে চঞ্চল চৌধুরী বলেন যে হুমায়ূন আহমেদের গল্পের এক জাদুকরী আকর্ষণ আছে এবং সেখান থেকেই চমৎকার একটি চিত্রনাট্য তৈরি হয়েছে। ট্রেন ও হেলিকপ্টারের ব্যবহারে বিশাল ক্যানভাসে নির্মিত এই যাত্রাপথের গল্পটিতে তার সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম ও বাঁধনের মতো তারকারা।
অন্যদিকে রেদওয়ান রনির 'দম' সিনেমার জন্য চঞ্চলকে পাড়ি দিতে হয়েছে কাজাখস্তানের বরফঢাকা প্রান্তরে। মাইনাস দুই-তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তীব্র শীত আর প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে সংগ্রামের এক অনন্য গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে। আফরান নিশো ও পূজা চেরির সঙ্গে এই সিনেমায় অভিনয় করাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন চঞ্চল।
বড় এই দুটি প্রজেক্টের বাইরেও ঈদে চঞ্চল চৌধুরীকে দেখা যাবে পরিচালক রায়হান রাফীর 'প্রেশার কুকার' সিনেমায়। মূলত নারীপ্রধান গল্পের এই ছবিতে তিনি একটি বিশেষ ক্যামিও চরিত্রে অভিনয় করেছেন। শবনম বুবলী, নাজিফা তুষি ও মারিয়া শান্তর মতো অভিনেত্রীদের নিয়ে নির্মিত এই গল্পে চঞ্চলের উপস্থিতি দর্শকদের জন্য বাড়তি পাওনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুধু অভিনয়ই নয়, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা 'আন্ধার' সিনেমায় সম্পূর্ণ নতুন এক লুকে হাজির হবেন তিনি। এর বাইরে লিসা গাজীর 'শাস্তি' সিনেমায় তার বিপরীতে দেখা যাবে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে। অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন তিনি। ব্রাত্য বসুর 'শেকড়' সিনেমায় দুটি কালজয়ী বাউল গানে প্লেব্যাক করেছেন চঞ্চল, যা তার বহুমুখী শিল্পীসত্তার পরিচয় দেয়।
ঈদের এই তিনটি সিনেমাই নির্মাণশৈলী এবং গল্পের দিক থেকে একে অপরের চেয়ে আলাদা। কাজাখস্তানের কনকনে ঠান্ডা থেকে শুরু করে লোকজ বাউল গান পর্যন্ত চঞ্চল চৌধুরীর এই বৈচিত্র্যময় যাত্রা প্রমাণ করে কেন তিনি সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি। উৎসবের আমেজে চঞ্চলের এমন দাপুটে উপস্থিতি দর্শকদের সিনেমা হলে ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এবারের ঈদ তাই চঞ্চল ভক্তদের জন্য হতে যাচ্ছে অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর।