ভাষা আন্দোলনের চেতনা, বাংলা চলচ্চিত্রের ঐতিহ্য এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতাকে একসুতোয় গেঁথে আবারও শুরু হতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ চলচ্চিত্র আয়োজন ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব ১৪৩২’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের ২৪তম আসর বসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছয় দিনব্যাপী চলবে এ উৎসব।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশীয় সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত চলচ্চিত্রগুলো দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে। এবারের আসরে ২০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট, বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট ও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে চারটি করে প্রদর্শনী থাকবে। প্রতিটি শোর টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা, যা টিএসসি প্রাঙ্গণের বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
উৎসবের উদ্বোধনী দিনে (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে প্রদর্শিত হবে আহমেদ হাসান সানির আলোচিত সিনেমা ‘এখানে রাজনৈতিক আলাপ জরুরি’। প্রবাসী বাংলাদেশি নূরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ।

দ্বিতীয় দিন (৪ ফেব্রুয়ারি) থাকছে সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দেয়া নেয়া’, আলমগীর কবীরের ‘সূর্যকন্যা’, শরাফ আহমেদ জীবনের ‘চক্কর ৩০২’ এবং রায়হান রাফীর বহুল আলোচিত ‘তাণ্ডব’।
তৃতীয় দিনে (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রদর্শিত হবে সালাউদ্দিনের ‘রূপবান’, সাদিক আহমেদের ‘দ্য লাস্ট ঠাকুর’, পিপলু আর খানের ‘জয়া আর শারমিন’ এবং মনিরুল হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখাঁরপুল’।
চতুর্থ দিনের আয়োজনে থাকছে হারুনুর রশিদের ‘মেঘের অনেক রঙ’, তোজাম্মেল হক বকুলের জনপ্রিয় ‘বেদের মেয়ে জ্যোৎস্না’, মিঠু খানের ‘নীলচক্র’ এবং কামার আহমাদ সাইমনের ‘অন্যদিন’।
পঞ্চম দিনে (৭ ফেব্রুয়ারি) দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন তপন সিনহার ‘হারমোনিয়াম’, তারেক মাসুদের ঐতিহাসিক ‘মুক্তির গান’, সানী সানোয়ারের ‘এশা মার্ডার’ এবং তানিম নূরের ‘উৎসব’।
সমাপনী দিনে প্রদর্শিত হবে বেলাল আহমেদের ‘নয়নের আলো’, কাজী হায়াতের ‘ধর’, পাশাপাশি তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র— মাহফুজ সরকারের ‘মায়া: দ্য নেম উই কল’, আহসাবুল ইয়ামিনের ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ ও উম্মিদ আশরাফের ‘ধ্যাৎ’। সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে দেখানো হবে কলকাতার জয়ব্রত দাশের ‘দ্য অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস’।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ ২০০২ সাল থেকে নিয়মিত এই উৎসব আয়োজন করে আসছে। রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরেও টিএসসিকে সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থী, চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সাধারণ দর্শকদের কাছে এটি এখন এক বার্ষিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষায়, “বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও সিনেমার স্মৃতি-ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এই প্রয়াস।” ফলে দেশের ক্লাসিক থেকে সমসাময়িক—বৈচিত্র্যময় চলচ্চিত্রের মিলনমেলায় পরিণত হতে যাচ্ছে এবারের ‘আমার ভাষার চলচ্চিত্র’।