সর্বশেষ

মুম্বাইতে শেষকৃত্য সম্পন্ন

অনন্তযাত্রায় বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র

বিনোদন ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ২৩:৫২
অনন্তযাত্রায় বলিউডের ‘হি-ম্যান’ ধর্মেন্দ্র

বহু দিনের জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে না–ফেরার দেশে চলে গেলেন বলিউড কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র। সোমবার সকালে মুম্বইয়ের জুহুতে নিজ বাসভবনেই ৮৯ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। মাত্র কয়েকদিন পরই তাঁর বয়স ৯০ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, ফিল্মফেয়ারসহ ভারতীয় শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

 

ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে বলিউডে নেমেছে শোকের ছায়া। মুম্বইয়ের পবন হংস শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্যে হাজির হন অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান, অক্ষয় কুমার, আমির খান, সঞ্জয় দত্ত, অনিল কাপুরসহ অসংখ্য চলচ্চিত্র তারকা। শোকসন্তপ্ত অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী হেমা মালিনী, কন্যা এষা দেওল এবং পুরো দেওল পরিবার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে করণ জোহর, কারিনা কাপুর, অনন্যা পান্ডে—সামাজিক মাধ্যমেও তাঁরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এই কিংবদন্তিকে।

 

গত কয়েকদিন ধরে ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। আজ তক, ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনমিক টাইমসসহ কয়েকটি গণমাধ্যম ভুলবশত সেই সংবাদ প্রকাশও করে। রাজনাথ সিং, জাভেদ আখতার, কে কে মেনন, চিরঞ্জীবী সহ অনেকেই শোকবার্তা লিখেছিলেন। পরে এষা দেওল জানান, খবরটি গুজব; বাবার অবস্থা স্থিতিশীল। ভুয়া খবর ছড়ানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হেমা মালিনীও। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই সত্যি হয় আশঙ্কা। রাতে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়; চেষ্টা ব্যর্থ হয় চিকিৎসকদের।

 

১৯৩৫ সালে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্ম নেওয়া ধর্মেন্দ্রর প্রকৃত নাম ধর্মসিং দেওল। দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হয়েও আলো-ঝলমলে পর্দার প্রতি তাঁর আকর্ষণ ছিল শৈশব থেকেই। ১৯৬০ সালে ফিল্মফেয়ার ট্যালেন্ট সার্চ জিতে মুম্বইয়ে পা রাখেন। ‘ফুল অউর পাথর’-এ তাঁর অভিনয় তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যায়। পরবর্তী দুই দশকে ‘শোলে’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘ধর্মবীর’, ‘দোস্ত’—প্রতিটি চলচ্চিত্রে নানা রূপে হাজির হয়ে তিনি হয়ে ওঠেন বলিউডের বহুমাত্রিক নায়ক।

 

 

রোম্যান্টিক নায়ক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সত্তর দশকের বলিউডে ‘রাগী যুবক’ ইমেজের উত্থানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন অ্যাকশন সুপারস্টার। তাঁর বিখ্যাত সংলাপ — “চুন চুনকে মারুঙ্গা” — আজও উপমহাদেশজুড়ে দর্শকের মুখে মুখে ফেরে। ‘শোলে’-তে ‘বীরু’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসে চিরস্থায়ী হয়ে রয়েছে।

 

একই সময়ে তিনি সাহস দেখিয়েছেন নিজের তারকামূর্তি চ্যালেঞ্জ করে অভিনয়ের ভেতরের মানুষটিকে তুলে ধরার। হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের ‘গুড্ডি’ ছবিতে নিজের চরিত্রে নিজেই অভিনয় করেছিলেন; বাস্তব ও পর্দার বিভাজন নিয়ে সে সময় এমন পরীক্ষা ছিল বিরল। ‘বন্দিনী’, ‘অনুপমা’, ‘আঁখে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’—এসব ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে, তিনি শুধু বাণিজ্যিক নায়ক নন; চরিত্রের গভীরে ডুব দেওয়ার ক্ষমতাও রাখতেন।

 

তবে ‘শোলে’-এর পর বলিউডের বাণিজ্যিক ঘরানা একরৈখিক হয়ে উঠতে থাকলে তিনিও থেকে যান মূলধারার অ্যাকশন-নায়কের ফর্মুলায়। ৮০ ও ৯০ দশকে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিলেও সমান্তরাল ঘরানার পরীক্ষামূলক চরিত্রে তাঁকে আর তেমন দেখা যায়নি।

 

বৃদ্ধ বয়সেও তিনি অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন। বরেণ্য এই অভিনেতার শেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করণ জোহরের ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কহানি’ (২০২৩)। হুইলচেয়ারে বন্দি স্মৃতিভ্রষ্ট কমলের ভূমিকায় তাঁর স্বল্প পর্দা–সময়ও দর্শকদের চোখ ভিজিয়েছে। শাবানা আজমির সঙ্গে তাঁর স্মরণীয় সেই রোমান্টিক দৃশ্য প্রমাণ করে—৮৭ বছর বয়সেও ধর্মেন্দ্র ভোলেননি রোম্যান্স নির্মাণের ভাষা।

 

চিরতরুণ, চিররসিক, চিরপ্রেমিক এই তারকা দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে ভারতীয় সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছেন অগণিত চরিত্রে, অগণিত মুহূর্তে। বলিউডের ‘হি-ম্যান’ আজ আর নেই—তবু ‘বীরু’, ‘পেয়ারে মোহন’, ‘কমল’, ধর্মেন্দ্র—সব নামেই তিনি থাকবেন দর্শকের হৃদয়ে।

সব খবর