সর্বশেষ

ফিরে ফিরে আসে ভাষার মাস, ফিরে ফিরে আসে আশার মাস

প্রকাশিত: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০
ফিরে ফিরে আসে ভাষার মাস, ফিরে ফিরে আসে আশার মাস


ফাগুনটা খুব ভীষণ দস্যি মাস
পাথর ঠেলে মাথা উঁচোয় ঘাস,
হাড়ের মতো শক্ত ডাল ফেঁড়ে
সবুজ পাতা আবার ওঠে বেড়ে।
- হুমায়ুন আজাদ
 

হ্যাঁ, হুমায়ুন আজাদ ঠিকই বলেছেন। এই সবুজ পাতা আমাদের প্রাণের স্পন্দন- আমাদের বেঁচে থাকবার আশ। আমরা এই সবুজের তরে বেঁচে থাকতে চাই।


ঋতুচক্রের পালাবদলে দুয়ারে এসেছে ভাষার মাস। ফেব্রুয়ারি এলে প্রকৃতি সেজে ওঠে নতুন চেহারায়। বাঙালি জীবনে এ মাসের গুরুত্ব অপরিমেয়। ভাষার জন্য শহীদদের আত্মদান বিশ্বের বুকে আমাদেরকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বাংলাকে দেয় ভিন্নমাত্রা।
 

সাতচল্লিশে দেশভাগের পর পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী বাঙালির মুখের ভাষা বাংলা কেড়ে নেবার ষড়যন্ত্র করলে বায়ান্নর ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর বুকের তাজা রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে বুঝিয়ে দেয়, বাঙালি দমে যাবার জাতি নয়। সেই থেকে বাংলা পৃথিবীর আনাচাকানাচে বাস করা বাংলা ভাষাভাষীর একমাত্র মুখের বুলি। ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ পৃথিবীর সব প্রান্তে একসাথে গীত হয়, আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...
 

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ভাষা আন্দোলনে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতের যে রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল সেই রক্তের পথ ধরেই পরবর্তীতে বাঙালি তার প্রতিটি আন্দোলন- সংগ্রামের পথ নির্দেশ পেয়ে পেয়ে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম লাল সবুজের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে। ভাষা আন্দোলন সকল অন্যায়- অত্যাচার- শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছিল বাঙালিকে।


গবেষকরা বলছেন, বায়ান্ন'র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির ভেতরে যে প্রতিবাদের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিল কালের প্রবাহে তা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে প্রজ্বলিত হয়েছে শতধারায়। 


ফাগুন মাসের আগুন, ভাষার মাসের আগুন ছড়িয়ে পড়ুক আমাদের সবার মননে। চেতনায়। বোধে। ভেতরে আর বাহিরে।

সব খবর