সর্বশেষ

কক্সবাজারে গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণ

ছিল না অনুমোদন, মানা হয়নি নিরাপত্তা বিধিও

জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:২৪
ছিল না অনুমোদন, মানা হয়নি নিরাপত্তা বিধিও

কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে একটি এলপিজি গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বুধবার (রাত ১০টা) কলাতলীর প্রবেশমুখে ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ নামের পাম্পটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে গ্যাস ‘লোড-আনলোড’ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অগ্নি-নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সনদ ছিল না।

 

এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মুসাইব ইবনে রহমান দাবি করেন, পরিবেশগত অবস্থানগত ছাড়পত্র ছাড়াই পাম্পটি নির্মাণ করা হয়েছে। “সিএনজি বা এলপিজি স্টেশন স্থাপনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি সেই নিয়ম মানেনি,” বলেন তিনি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান এই কর্মকর্তা।

 

ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা পুলিশ ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, “কমিটি দ্রুত কাজ শুরু করেছে। মালিকপক্ষকে সব কাগজপত্র প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

 

অন্যদিকে পাম্পটির স্বত্বাধিকারী এন আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “লাইসেন্স ছাড়া এমন প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয়। আমাদের প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ নয় এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

 

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ভিন্ন। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমরা প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। বিস্ফোরণে ঘরবাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি এখন সর্বস্বান্ত।” তার দাবি, যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে পাম্পটি চালু করা হয়েছিল। তিনি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা না রাখার দাবি জানান।

 

বিস্ফোরণের প্রভাবে পাম্পটির প্রায় ৫০ গজ দূরে একটি গ্যারেজে থাকা অন্তত ২০টি গাড়ি পুড়ে গেছে। গ্যারেজে থাকা চালক মো. ফরিদুল আলম বলেন, “গ্যাসের গন্ধে চোখ-মুখ খুলে রাখা যাচ্ছিল না। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।”

 

কলাতলী থেকে লিংকরোড পর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটারের মধ্যে চারটি ফিলিং স্টেশন স্থাপিত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

সব খবর