কুমিল্লার একটি লেভেল ক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (ঈদের দিন) ভোররাতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনটি ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ট্রেন সেটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত আটজন, যাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা অজয় ভৌমিক জানিয়েছেন, আহতদের বেশিরভাগই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং গুরুতর দুজনকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৮ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা জানান, দুর্ঘটনার সময় দায়িত্বে থাকা গেটম্যান মেহেদী ও হেলালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গেটম্যানের অবহেলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে।”
একইসঙ্গে রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এসব কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন এসে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি সরিয়ে নেয় এবং সকাল ১০টার দিকে রেল চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি অসতর্কভাবে রেললাইনে উঠে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।