গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক হোটেল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। এলাকাবাসী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আরেকটি মব সহিংসতার ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিহত হোটেল ব্যবসায়ীর নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ (৫৫)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার চান্দাইয়া এলাকার বাসিন্দা এবং পৌরসভা সংলগ্ন বড়নগর সড়কে অবস্থিত ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’-এর মালিক ছিলেন। শনিবার (আজ) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজ হোটেলেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন বালীগাঁও এলাকার মৃত তারা মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (৫৫), তার স্ত্রী মাজেদা খাতুন (৪৫) এবং তাদের ছেলে মাসুম মিয়া (২৮)।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা তাদের কলাবাগান থেকে একটি কলার ছড়ি হারিয়ে যাওয়ার দাবি করেন। তারা সেই কলার ছড়ি লিটন চন্দ্র ঘোষের হোটেলে পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ তুলে হোটেলে এসে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তা মারধর ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে মাসুম মিয়ার সঙ্গে হোটেলের এক কর্মচারীর কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে স্বপন মিয়া ও মাজেদা খাতুন ঘটনাস্থলে এসে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি শান্ত করতে লিটন চন্দ্র ঘোষ এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বেলচা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডিউটি চিকিৎসক ডা. ইমরান হোসেন জানান, লিটন চন্দ্র ঘোষকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।