রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের চায়ের দোকানদার বিল্লাল হোসেন বলেন, কয়েল জ্বালিয়েও মশার হাত থেকে রেহাই নেই। একইভাবে রোকেয়া সরণির বাসিন্দা বাদল সূত্রধর জানান, জীবনে এত মশা কখনো দেখেননি। দোকানে মশা নিয়ন্ত্রণের সামগ্রীও সংকটে পড়েছে।
এ অবস্থায় স্থানীয় সরকার ও সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাঝে মাঝে ওষুধ ছিটানো হলেও তা কার্যকর হচ্ছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা জানান, ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই করতে নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বৃষ্টি না থাকায় ড্রেন ও জলাধারে পানি জমে গেছে, যা মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। সিটি করপোরেশন যথাযথভাবে মশক নিধন কার্যক্রম চালালে এ অবস্থা হতো না।
চট্টগ্রামে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। গত ১৬ মাসে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। আইইডিসিআরের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে লার্ভার ঘনত্ব ছিল ৩৬ শতাংশ, যা এক বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ শতাংশে।
রাজশাহীতে ফগার মেশিন ও ওষুধ কেনা বন্ধ থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। গত ১৪ মাসে সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ১,৭২০ জন, মারা গেছেন ২১ জন। সিলেটে কর্মী সংকটে মশক নিধন কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। খুলনায় ফার্নেস অয়েল ও অ্যাডাল্টিসাইডের মজুত শেষ হয়ে আসায় মশা বাড়ছে। রংপুরে ওষুধ ছিটানো হলেও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ময়মনসিংহে কোটি টাকার বাজেট থাকলেও সাঁড়াশি অভিযানে মশা কমছে না। বগুড়া ও কুমিল্লায় বরাদ্দ থাকলেও কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়।
দেশের প্রায় সব শহরে মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, কর্মী সংকট, বাজেট বরাদ্দের অকার্যকর ব্যবহার এবং দায়িত্বশীল সংস্থার উদাসীনতা মশার প্রজননকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষার আগে প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস না করলে সামনে আরও বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।