যানজট, রেল দুর্ঘটনা, নৌপথের বিপর্যয় আর বৃষ্টির কারণে এবারের ঈদযাত্রা ঘরমুখো মানুষের জন্য হয়ে উঠেছে দুর্ভোগের আরেক নাম। তবুও পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের আনন্দে মানুষ সব কষ্ট সহ্য করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এবারের ঈদযাত্রা শুরুতে তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক হলেও বুধবার থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। গাজীপুর অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক পোশাক কারখানা একযোগে ছুটি দিলে হাজার হাজার শ্রমিক একসঙ্গে সড়কে নেমে পড়েন। ফলে মহাসড়কে তৈরি হয় ভয়াবহ যানজট। দুপুরের পর থেকে চন্দ্রা মোড় হয়ে যানজটের লেজ ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে শেষ বিকেলের বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

বাসের অভাবে অনেকেই মালবাহী ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরেছেন। নারী-পুরুষ-শিশু সবাইকে ট্রাকের ওপর ত্রিপল বিছিয়ে বসতে দেখা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না, আর পেলেও দাম দ্বিগুণ। তাই বাধ্য হয়ে ট্রাকেই যাত্রা করতে হচ্ছে।
রেলপথেও চাপ ছিল তীব্র। রাজধানী থেকে ছাদে যাত্রী বোঝাই করে ট্রেন ছেড়ে গেছে। তবে দুপুরে বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গগামী ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। রেলওয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিকল্প পথে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ঈদযাত্রা ব্যাহত না হয়। তবে কিছু ট্রেনের সময়সূচি বিলম্বিত হতে পারে।

নৌপথেও ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। সদরঘাটে বিকেলে দুটি লঞ্চের মাঝে পড়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকার দুর্ঘটনায় একজন নিহত, একজন গুরুতর আহত এবং কয়েকজন নিখোঁজ হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লঞ্চের চাপায় নৌকাটি ডুবে যায় এবং যাত্রীরা পানিতে পড়ে যায়।
পাটুরিয়া ঘাটেও ছিল ভোগান্তি। সন্ধ্যায় ঝড়ো হাওয়ার কারণে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল এক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঘাটে গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরে আবহাওয়া শান্ত হলে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল আবার শুরু হয়।