পুলিশের লুট হওয়া বৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এক বছর আগে লুট হওয়া এসব অস্ত্র উদ্ধারে গত ১০ আগস্ট পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও তেমন ফল পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রায় ১,৩৪০টি অস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি গুলি এখনো নিখোঁজ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেশকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এর ফলে সহিংসতা, রাজনৈতিক ভীতিপ্রদর্শন এবং অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা রয়েছে।
১২ ডিসেম্বর রাজধানীর মতিঝিলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর খুলনায় দলীয় অন্তঃকোন্দলে এনসিপি নেতা মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। গত ১৪ মাসে যশোর, চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ ২০ জেলায় অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে ৫০০-র বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন।
- একটি লাইট মেশিনগান (এলএমজি) উদ্ধার করলে ৫ লাখ টাকা
- সাব মেশিনগান (এসএমজি) উদ্ধার করলে দেড় লাখ টাকা
- চায়না রাইফেল উদ্ধার করলে ১ লাখ টাকা
- পিস্তল বা শটগান উদ্ধার করলে ৫০ হাজার টাকা
- প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য ৫০০ টাকা
তবে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৩৫টি অস্ত্র এবং ১৯০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।
নির্বাচনের আগে সরকার নতুন অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান স্থগিত করেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় ১৭,২০০টি লাইসেন্স দিয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এসব লাইসেন্স স্থগিত করে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
- জমা পড়েছে ১৩,৩৪০টি অস্ত্র
- জমা হয়নি ৩,৮৬০টি অস্ত্র, যা এখন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে
সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১,১৭৭টি লাইসেন্স বাতিল করেছে, যার মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৭৯৬টি।