দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বছরের শেষ দিন বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে—মাত্র ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা, সূর্যের অনুপস্থিতি ও টানা শৈত্যপ্রবাহে জেলার কোটালীপাড়া উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান জানান, সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। গত পাঁচ দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।
দেশের অন্যান্য অংশেও শীতের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। এর আগে দিনাজপুরে সর্বনিম্ন ১১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নওগাঁ ও জয়পুরহাটে সকাল ও রাতে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস বইছে।
রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে শীতের অনুভূতি বেশি। টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জসহ মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ১২–১৩ ডিগ্রির ঘরে রয়েছে। রাজশাহী বিভাগে পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা বিভাগের যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও নড়াইলে তাপমাত্রা ১২–১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও সেখানেও শীত অনুভূত হচ্ছে।
গোপালগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় শীতের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ ও শ্রমজীবীদের ওপর। দিনমজুররা কাজে বের হতে পারছেন না, কৃষকরা দেরিতে মাঠে যাচ্ছেন। ফলে নিম্ন জলাভূমি অধ্যুষিত এলাকার একফসলি জমিতে বোরো ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। দুপুরের পর কিছুটা তাপমাত্রা বাড়লেও সার্বিক পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষকে সড়কের পাশে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরম করতে দেখা গেছে। ভ্যানচালক শুকুর আলী বলেন, “প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও জীবিকার তাগিদে বের হয়েছি, কিন্তু যাত্রী নেই। খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না।”
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সরকারি সহায়তা
শীতের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস জানান, কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে, ফলে সীমিত চিকিৎসক সংকটে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো চাপের মুখে পড়েছে।
এদিকে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক জানান, শীতার্ত মানুষের মাঝে সরকারিভাবে পাওয়া কম্বল ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তরের হিমেল হাওয়া ও সূর্যের অনুপস্থিতির কারণে শুক্রবার পর্যন্ত একই ধরনের শীতল আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।