রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণ দেখিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এ বছর শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের জন্মবার্ষিকীর আয়োজন সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। নিয়মিত তিন দিনের আয়োজনের পরিবর্তে এবার এক দিনেই জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ বছর আয়োজন করা হয়নি বহুল পরিচিত ‘জয়নুল মেলা’, দেওয়া হয়নি ‘জয়নুল সম্মাননা’ও।
চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আজহারুল ইসলাম শেখ জানান, দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এ বছর জয়নুল মেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “জয়নুল মেলায় আমাদের সব বিভাগের শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের শিল্পকর্ম তৈরি করে অংশগ্রহণ করে। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে সে প্রস্তুতি নেওয়া যায়নি। তাই এ বছর মেলা না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।” একই কারণে এ বছর ‘জয়নুল সম্মাননা’ও দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
আয়োজনের পরিসর সংকুচিত হওয়া প্রসঙ্গে ডিন বলেন, “সাধারণত তিন দিনের অনুষ্ঠান হয়। এবার এক দিনের আয়োজন হলো। ফলে পরিসর কিছুটা ছোট হয়েছেই।”
চারুকলার একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুরুতে জয়নুল মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মেলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “২০০৯ সাল থেকে নিয়মিত জয়নুল মেলা হয়ে আসছিল। এবছরই প্রথম এই ধারাবাহিকতায় ব্যতিক্রম ঘটছে।”
সোমবার দিনব্যাপী ‘জয়নুল জন্মবার্ষিকী ২০২৫’ উপলক্ষে সীমিত কর্মসূচি পালিত হয়। এর মধ্যে সকাল ১০টায় শিল্পাচার্যের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ১১টায় চারুকলা অনুষদের শিক্ষকদের শিল্পকর্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনী এবং দুপুর ১২টায় স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।
বিগত বছরগুলোতে জয়নুল মেলাকে ঘিরে চারুকলা অনুষদের প্রাঙ্গণে বসত লোকজ শিল্পের বর্ণিল আসর। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত লোকশিল্পীরা মাটির টেপা পুতুল, শোলার ফুল-পাখি, সরাচিত্র, নকশি কাঁথা ও নানা হস্তশিল্প নিয়ে অংশ নিতেন। বায়োস্কোপসহ নানা আয়োজন নগরজীবনে আলাদা আবহ তৈরি করত। এ বছর এসব আয়োজন থাকছে না।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ। চিত্রশিল্প যে প্রতিবাদ, অধিকার ও স্বাধীনতার ভাষা হতে পারে—তার শিল্পকর্মে তিনি সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ফুসফুসের ক্যানসারে মারা যান।