রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতীর মাজারে বার্ষিক ওরশ পালনে পুলিশি বাধার অভিযোগ তুলেছেন ভক্ত ও অনুসারীরা। তাদের দাবি, শুক্রবার থেকে তিন দিনব্যাপী ওরশ আয়োজনের কথা থাকলেও সন্ধ্যার পর পুলিশ মাজারের মূল স্থাপনার ভেতর থেকে ভক্তদের বের করে দেয় এবং পুনরায় প্রবেশে বাধা দেয়। এ ঘটনায় মাজার এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভক্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত অনুসারী, ফকির ও পাগলরা সন্ধ্যার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে জড়ো হন। কিন্তু সন্ধ্যার পরপরই পুলিশ তাদের মাজারের ভেতরে থাকতে দেয়নি। এমনকি কেউ কেউ রীতি অনুযায়ী মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রস্থান করতে চাইলেও সেটিও করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। মহাথেরো মোহাম্মদ নামে এক ভক্ত সন্ধ্যার পর মাজার এলাকা থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। ওই ভিডিওতে ভক্তদের ক্ষোভ, পুলিশের আচরণ নিয়ে অভিযোগ এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, ওরশের মূল কর্মসূচি দিনের মধ্যেই শেষ হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, “ওখানে বাৎসরিক একটি কর্মসূচি ছিল। দুপুরে তবারক বিতরণ করা হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা থাকলেও কিছু মানুষ সেখানে থেকে যেতে চাইছিল।” তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট এলাকা একটি সংবেদনশীল ও উচ্চ নিরাপত্তার অঞ্চল হওয়ায় সন্ধ্যার পর অনাকাঙ্ক্ষিত কাউকে মাজারে ঢুকতে না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান রাত সাড়ে ৮টার দিকে বলেন, ওরশ শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। এরপর কিছু পাগল ও ভিক্ষুক সেখানে অবস্থান করছিল। খাবার না পাওয়ার অভিযোগে তারা চিৎকার করছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং পুলিশ বিষয়টি দেখছে বলে জানান।
এদিকে ঢাকার স্থাপত্যবিষয়ক গবেষক ও সাংবাদিক তরুণ সরকার বলেন, হাইকোর্ট মাজার নামে পরিচিত এই স্থানে শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী সমাহিত আছেন বলে ভক্তদের বিশ্বাস। ধারণা করা হয়, মোঘল সম্রাট আকবরের আমলে তিনি ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে ঢাকায় এসেছিলেন। যদিও তার জীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্য সীমিত, তবে শতাধিক বছরের বেশি সময় ধরে ভক্তরা এই মাজারকে ঘিরে ধর্মীয় চর্চা চালিয়ে আসছেন—এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
তিনি আরও জানান, মাজার প্রাঙ্গণে মোঘল আমলের একটি চৌচালা স্থাপত্য নিদর্শন এখনও টিকে আছে। প্রচলিত আছে, ১৬১৩ সালে মোঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ ভাওয়ালে রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করলে প্রথমে তাকে এই এলাকাতেই সমাহিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার দেহাবশেষ ফতেহপুর সিক্রিতে স্থানান্তর করা হয়। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওরশ ঘিরে পুলিশি নিয়ন্ত্রণ ও ভক্তদের অভিযোগ নতুন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।