চট্টগ্রামের হালিশহরে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ পরিবারের আরও একজন মারা গেছেন। গৃহকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বুধবার সকালে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তাঁর শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছিল। এ নিয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হলো।
সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটে। রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকার কারণে চুলা জ্বালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায় এবং পরিবারের নয়জন দগ্ধ হন। তারা তখন সেহরি করছিলেন।
প্রথম দিনেই সাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী ঢাকায় আনার পথে মারা যান। পরদিন সকালে তাঁদের ছেলে শাওন মারা যায়। একই দিনে দুপুরে সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামির আহমেদ এবং রাতে সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি মারা যান। বুধবার সকালে সাখাওয়াতের মৃত্যুতে পরিবারের শোক আরও গভীর হলো।
এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সামিরের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬), এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)। তাঁদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে এবং চিকিৎসকরা তাঁদের অবস্থা ‘আশঙ্কাজনক’ বলে জানিয়েছেন।
প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই আগুনে দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা একে একে ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। প্রথমে তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
পেশায় গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত হোসেন দেড় বছর আগে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি স্ত্রী, সন্তান ও কর্মচারীসহ থাকতেন। কয়েক দিন আগে তাঁর ছোট ভাই পরিবার নিয়ে ডাক্তার দেখাতে এসে ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বিস্ফোরণের কারণ উদঘাটনে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে রান্নাঘরে গ্যাস জমে থাকার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।