ফাল্গুনের আগমনী বার্তা নিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো বসন্ত বরণ উৎসব। শনিবার সকালে নগরীর আমবাগানে শহীদ ওয়াসিম পার্কে বোধন আবৃত্তি পরিষদের আয়োজনে বসন্তকে স্বাগত জানাতে আয়োজন করা হয় নাচ, গান, আবৃত্তি ও শোভাযাত্রার।
‘নিবিড় অন্তরতর বসন্ত এলো প্রাণে’ স্লোগানে সকাল ৯টায় ভায়োলিনিস্ট চিটাগাংয়ের যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর একে একে আবৃত্তি, নৃত্য, সংগীত ও কথামালায় বসন্তকে বরণ করে নেয় অংশগ্রহণকারীরা।
অনুষ্ঠানের ‘বসন্ত কথন’ পর্বে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “প্রকৃতির নিয়মে আবার ফাল্গুন এসেছে। বোধন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে। এই উৎসব চলতে থাকবে। আমাদের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে হবে। আপনাদের সবাইকে নিয়ে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সাংস্কৃতিক নগরী হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলতে চাই।”
উৎসবে নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্লাসিক্যাল এন্ড ফোক ডান্স, নৃত্য নিকেতন ও মাধুরী ডান্স একাডেমির শিল্পীরা। দলীয় সংগীতে বসন্তকে স্বাগত জানান সুর পঞ্চম, আর কে মিউজিক ও বাগেশ্বরী। একক গান পরিবেশন করেন কেশব জীপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ ও মনি আচার্য্য।
তবলা পরিবেশন করেন উঠান সংগীত বিদ্যালয়ের শিল্পীরা। একক আবৃত্তি করেন কংকন দাশ, মিশফাক রাসেল ও দেবাশীষ রুদ্র। ঢোলবাদনে ছিলেন দীপক ও তার দল।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে হয় বসন্তকথন পর্ব। এতে অংশ নেন বোধনের সহ-সভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল সোহেল এবং অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল। পরে বোধন আবৃত্তি পরিষদের শিল্পীরা একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বীনি, ঋত্বিকা নন্দী ও পল্লব গুপ্ত। অনুষ্ঠান শেষে বসন্ত বরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
চট্টগ্রামের বসন্ত উৎসব শুধু ঋতুর আগমন উদযাপন নয়, বরং ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে জীবন্ত রাখার এক প্রাণবন্ত আয়োজন। নাচ, গান, আবৃত্তি ও শোভাযাত্রায় ভরে ওঠে শহীদ ওয়াসিম পার্ক, আর অংশগ্রহণকারীরা বসন্তের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে।