সর্বশেষ

ঘরবাড়ি ছাড়ছে মানুষ

মিয়ানমারের সংঘর্ষে টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক

জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:১১
মিয়ানমারের সংঘর্ষে টেকনাফ সীমান্তে আতঙ্ক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী, আরাকান আর্মি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান ত্রিমুখী সংঘর্ষের সরাসরি প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায়। প্রতিদিন গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার ইতিমধ্যেই ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। ফলে এলাকার অধিকাংশ বাড়িঘর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।  

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছি ব্রিজ-সংলগ্ন পূর্বপাড়া এলাকায় একটি গুলির খোসা এসে পড়ে আবু তাহেরের বাড়ির আঙিনায়। এ ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চলে গেছে।” একই এলাকার আবু তাহের জানান, সংঘর্ষের কারণে নাফ নদীতে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেকের ঘরে চুলা জ্বলছে না, পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে।

 

সরজমিনে দেখা গেছে, পূর্বপাড়ার অন্তত ১০ থেকে ১২টি পরিবার নিরাপত্তার অভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহ জালাল বলেন, প্রতিনিয়ত গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। গত দুই দিনে একজন গুলিবিদ্ধ ও অপরজন মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।  

 

সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন চন্দ্র দে জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।  

 

গত রবিবার মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয় শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান। তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। শিশুটির চাচা আলী আকবর বলেন, “আমার ভাতিজির কোনো অপরাধ ছিল না। আমরা চাই, সীমান্ত এলাকায় যেন আর কোনো নিরীহ শিশু এভাবে গুলিবিদ্ধ না হয়।”  

 

এছাড়া সোমবার হোয়াইক্যং লম্বাবিল সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামে এক যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার বাবা মো. ফজলুল হক জানান, পরিবারটি চরম সংকটে রয়েছে।  

 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইনামুল হাফিজ নাদিম বলেন, গুলিবিদ্ধ শিশু আফনান ও মাইন বিস্ফোরণে আহত হানিফের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বুধবার তাদের পরিবারের কাছে চেক হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

সব খবর