সর্বশেষ

ঈশ্বরদীর ১০৭ বিঘার রেশম বীজাগার এখন প্রায় পরিত্যক্ত

প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৩৪
ঈশ্বরদীর ১০৭ বিঘার রেশম বীজাগার এখন প্রায় পরিত্যক্ত

পাবনার ঈশ্বরদীতে ১০৭ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারি রেশম বীজাগারটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ৬৪ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটি একসময় দেশের রেশম শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও দীর্ঘদিনের অবহেলা, জনবল সংকট এবং অর্থায়নের অভাবে আজ ধ্বংসের মুখে।

 

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬২ সালে ঈশ্বরদী উপজেলার আলহাজের মোড়ে এই বীজাগার প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুতে ৫৯ বিঘা জমিতে তুঁত গাছ রোপণ করা হয়েছিল। বাকি জমিতে কার্যালয়, আবাসিক ভবন, রেশম পোকা পালনের ঘর, তাঁতশালা, পরীক্ষাগার ও চারটি পুকুরসহ মোট ১৯টি স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। একসময় এখানে ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শতাধিক শ্রমিক কাজ করতেন।  

 

 

কিন্তু ২০১৮ সালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির করুণ দশা শুরু হয়। বর্তমানে মাত্র দুজন কর্মকর্তা ও একজন নৈশপ্রহরী দায়িত্ব পালন করছেন। নৈশপ্রহরী ইনসাফ আলী বলেন, “এত বড় এলাকা একা পাহারা দেওয়া অসম্ভব, তবুও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।”  

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, রেশমকীট পালনের ঘর, গুটি উৎপাদন কক্ষ, সুতা উৎপাদন ইউনিট ও পরীক্ষাগার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিস্তীর্ণ এলাকা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় গাছ ও সরঞ্জামাদি চুরি হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র ১১ বিঘা জমিতে তুঁত গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে, বাকি জমি বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে আছে।  

 

 

ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক খোকন আলী জানান, “এই খামারের মূল উদ্দেশ্য ছিল রেশম পোকা পালন করে গুটি উৎপাদন। কিন্তু দক্ষ জনবল ও অর্থায়নের অভাবে সাত বছর ধরে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখন শুধু তুঁত গাছের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে, যা দেশের অন্যান্য রেশম খামারে সরবরাহ করা হয়।”  

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি ২০১০ সালের পর থেকে লোকসানে পড়ে। বকেয়া বেতন নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয়। ২০১৮ সালে বেতন পুরোপুরি বন্ধ হলে কর্মকর্তা ও শ্রমিকেরা চলে যান। অবহেলার কারণে প্রায় ৫০ হাজার তুঁতগাছ নষ্ট হয়ে গেছে।  

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখান থেকে উৎপাদিত রেশম গুটি ও সুতা একসময় রাজশাহীর সিল্ক কারখানায় সরবরাহ করা হতো। এতে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। কিন্তু সরকারি উদ্যোগের অভাব ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় সম্ভাবনাময় এই খাতটি এখন বিলীন হওয়ার পথে।

সব খবর