ঠাকুরগাঁও শহরে রাতের আঁধারে ‘হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার’সহ অন্তত চারটি মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঠাকুরগাঁও শহরের সত্যপীর ব্রিজ এলাকায় অবস্থিত ‘হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার’। এছাড়া বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন গোরস্তান এলাকায় অবস্থিত আরও তিনটি পুরোনো মাজারেও ভাঙচুর চালানো হয়।

শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা মাজারে এসে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত ভক্ত আশেকান মাজার এলাকায় জড়ো হন। তারা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, “শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা মাজারগুলোতে ঢুকে কবর, দরজা ও জানালা ভাঙচুর করেছে। তবে কোথাও চুরির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
স্থানীয়রা জানান, মাজারগুলো দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। এখানে ভক্তরা নিয়মিত জিয়ারত ও ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করতেন। এর আগে কখনো এমন ঘটনার নজির নেই।
মাজারের ভক্ত আলীম হোসেন বলেন, “এই মাজারটি আমার জন্মেরও আগের। এখানে কখনো কোনো খারাপ কাজ হয়নি। রাতের আঁধারে মুনাফেক কিছু লোক মাজার ও কবরগুলো ভেঙে দিয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

‘হযরত বাবা শাহ সত্যপীর মাজার’ কমিটির সভাপতি এনামুল হক বলেন, “শত শত ভক্ত আশেকান এখানে আসেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি, এই মাজারের সঙ্গে কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কাজের সম্পর্ক নেই। অথচ রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মাজার কমিটির পক্ষ থেকে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হামলার খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম বলেন, “যেহেতু কোনো চুরির ঘটনা ঘটেনি, এতে স্পষ্ট হয় এটি পরিকল্পিত হামলা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্মীয় উগ্রপন্থিরাই এই ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত।”
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিভিন্ন এলাকায় মাজার, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা বাড়ছে। এসব হামলা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।