গ্রামবাংলার জীবন, মানুষের সুখ–দুঃখ ও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে কবিতায় অনন্যভাবে তুলে ধরা প্রখ্যাত পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ১২৩তম জন্মদিন আজ বুধবার, ১ জানুয়ারি। কবির জন্মস্থান ফরিদপুর শহরতলির কুমার নদের তীরে অম্বিকাপুরে দিনটি গভীর শ্রদ্ধা ও নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১০টায় অম্বিকাপুরে কবির সমাধিস্থলে জেলা প্রশাসন, জসীম উদ্দীন ফাউন্ডেশন, ফরিদপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে সেখানে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন, রামানন্দ পাল, ফরিদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দীকি, প্রফেসর এম এ সামাদ, মফিজ ইমাম মিলনসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।
১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন কবি জসীম উদ্দীন। তাঁর পিতার নাম আনসার উদ্দীন মোল্লা এবং মাতার নাম আমিনা খাতুন। শৈশব ও কৈশোরে গ্রামবাংলার পরিবেশই তাঁর সাহিত্যচেতনায় গভীর প্রভাব ফেলে।
জসীম উদ্দীন ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার স্কুল ও পরে ফরিদপুর জেলা স্কুলে (বর্তমান ফরিদপুর জিলা স্কুল) লেখাপড়া করেন। ১৯২১ সালে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় বিএ (১৯২৯) ও এমএ (১৯৩১) ডিগ্রি অর্জন করেন।
পল্লীকবির অমর সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে ‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, ‘এক পয়সার বাঁশি’, ‘রাখালী’ ও ‘বালুচর’। ১৯৭৬ সালের ১৪ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে গ্রামবাংলার প্রাণের কবি হিসেবে জসীম উদ্দীন আজও মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।