পবিত্র রমজান মাস শেষের দিকে। সামনে ঈদুল ফিতর। ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাব পড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে। রাজধানীর পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, নারিন্দা কাঁচাবাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাজারে দেখা যায়, মুরগির দামে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি ও লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০-৩৫০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগি ছিল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি, আর সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ২৮০-৩০০ টাকায়। দেশি মুরগির দামও বেড়ে কেজিপ্রতি ৬৫০-৭০০ টাকায় উঠেছে, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল ৬০০-৬২০ টাকা।
মুরগির ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ সামনে রেখে বাজারে চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। রায়সাহেব বাজারের এক বিক্রেতা বলেন, ঈদ এলেই মুরগির চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বাড়ে দামও। গত কয়েকদিন ধরেই বাজারে দাম বাড়তির দিকে।
মাছের বাজারেও একই চিত্র দেখা গেছে। রুই ও কাতলা মাছের দাম কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকা বেড়ে এখন ২৮০-৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও এসব মাছ ২৪০-২৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত। তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজি ২২০ টাকা, ছোট রুই ২৬০ টাকা, বড় রুই ৩২০ টাকা, বড় পাঙাশ ২২০ টাকা এবং ছোট পাঙাশ ১৮০ টাকায়।
ইলিশ মাছের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বাজারে বড় আকারের ইলিশ ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি। বিক্রেতাদের দাবি, নদীতে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে এবং সামনে আরও বাড়তে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন নিম্নমুখী থাকার পর ফার্মের ডিমের দামও কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়, যা আগের তুলনায় প্রায় ১০ টাকা বেশি।
অন্যদিকে কিছু সবজির দাম কমেছে। বাজারে বেগুন কেজি ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২০ টাকা কম। করলা ছাড়া বেশিরভাগ সবজি ৬০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। আলু ১৫-২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০-৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
গরুর মাংস আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ঈদের আগে সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়তে পারে।
এদিকে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।