ফরিদপুর জিলা স্কুলের ১৮৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী উৎসব ও পুনর্মিলনী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও, শেষ দিনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পর্ব জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা জেমসের লাইভ কনসার্ট বহিরাগতদের হামলার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (তারিখ) শুরু হওয়া উৎসবের সমাপ্তি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার রাতে স্কুল প্রাঙ্গণে জেমসের পরিবেশনার মাধ্যমে। তবে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির অবনতির কারণে শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।
প্রথম দিনের আয়োজন: ঐতিহ্য ও স্মৃতির আবহ
উৎসবের প্রথম দিনে সকালে জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শপথ গ্রহণ এবং এক বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িসহ র্যালিটি ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশ নেন বর্তমান শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ছাত্র ও শিক্ষকরা। পুরো শহরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
দ্বিতীয় দিন: আনন্দের প্রস্তুতি, শেষ পর্যন্ত অশান্তি
দ্বিতীয় দিনের মূল আকর্ষণ ছিল সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যাফেল ড্র এবং রাত ৯টার দিকে জেমসের লাইভ কনসার্ট। স্কুল চত্বরে জড়ো হন হাজারো প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ দর্শকরা।
তবে আয়োজক কমিটির অভিযোগ, অনুষ্ঠানের সময় কিছু ‘বহিরাগত’ ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। তাদের প্রবেশে বাধা দিলে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং মঞ্চ দখলের চেষ্টা চালায়।
শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ, আহত ১৫–২০ জন
আয়োজক কমিটি জানায়, জেলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হলেও ইটের আঘাতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশে কনসার্ট বাতিল
রাত ১০টার দিকে আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীম জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জেমসের অনুষ্ঠানটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় আমরা অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হই।”
আয়োজকদের হতাশা
বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের প্রচার ও মিডিয়া উপকমিটির আহ্বায়ক রাজীবুল হাসান খান বলেন, “আমাদের সব প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু কেন, কী কারণে, কারা হামলা করল—তা আমরা বুঝতে পারলাম না। একটি আনন্দঘন আয়োজন এভাবে শেষ হবে, সেটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।”
১৮৫ বছরের গৌরবময় ঐতিহ্য
১৮৪০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর জিলা স্কুল দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও ঐতিহাসিক নানা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘ ১৮৫ বছরের পথচলায় অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী তৈরি করেছে এই স্কুল।
আয়োজকরা জানান, কোনো প্রধান অতিথি না রেখে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই এই উৎসব আয়োজন করা হয়েছিল। শেষ মুহূর্তের সহিংসতায় আনন্দের পরিসমাপ্তি না হলেও, স্কুলের ঐতিহ্য ও শিক্ষার্থীদের সংহতিই ছিল এই উৎসবের মূল অর্জন।