কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং পরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শিশুটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকাল ৯টার দিকে ১১ বছর বয়সী ওই ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। তবে দুপুরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও সে আর ফিরে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সহপাঠীরা জানায়, তারা সবাই একসঙ্গে স্কুল থেকে বের হয়েছিল।
নিখোঁজের পর বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী স্কুলে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাছে কক্ষের তালা খোলার জন্য চাবি চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে রাত ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা পুনরায় স্কুলে গিয়ে জোরপূর্বক চাবি নিয়ে তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন তলায় মেয়েটির স্যান্ডেল ও স্কুলব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন এবং তৃতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে তাকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর দ্রুত তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ১টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. হোসেন ইমাম জানান, শিশুটিকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে বলেও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের দপ্তরির ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তারা দাবি করছেন, ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন। তবে এ বিষয়ে এখনো তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিরপুর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুতর অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।