আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ম্যাচ নিয়ে টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে ভারতের বিপক্ষে খেলার অনুমতি দেন। পরে সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
মাত্র আট দিন আগেও ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল ইসলামাবাদ। তবে হঠাৎ এই অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ের একাধিক বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। তিনি আইসিসি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনার বিষয়গুলো শরিফকে অবহিত করেন। সূত্র বলছে, বিসিবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকেও পাকিস্তানকে ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানানো হয়। আঞ্চলিক কূটনৈতিক চাপ ও ক্রিকেটের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই সরকার সিদ্ধান্ত বদল করেছে।
পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বন্ধু দেশগুলোর অনুরোধ ও চলমান আলোচনা বিবেচনায় ক্রিকেটের সংস্কৃতি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে দলকে মাঠে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী খেলোয়াড়দের খেলোয়াড়সুলভ আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য মুবারিশ উসমানি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম নকভির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর থেকেই পাকিস্তানের অবস্থান নরম হওয়ার আভাস পাওয়া যায়। বিসিবিও এক বিবৃতিতে পাকিস্তানকে ভারত ম্যাচ খেলার অনুরোধ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে আইসিসির চাপও বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভারত ম্যাচ বর্জন করলে পিসিবির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেয় আইসিসি। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে ছিল পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের এনওসি না দেওয়া, এশিয়া কাপ থেকে বাদ দেওয়া বা আইসিসির রাজস্ব বণ্টন স্থগিত রাখা।
আর্থিক দিক থেকেও ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-পাকিস্তান লড়াইকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বাণিজ্যিক ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সম্প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাজারে এই ম্যাচের মূল্য সাধারণ ম্যাচের দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাচ বাতিল হলে অন্তত ২০০ কোটি রুপির বেশি ক্ষতি হতে পারত, যার প্রভাব পড়ত আইসিসি, স্পনসর ও সম্প্রচার সংস্থার ওপরও।
এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, পিসিবি আলোচনায় কয়েকটি শর্ত তুলেছিল—বাংলাদেশকে অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ, অংশগ্রহণ ফি এবং ভবিষ্যতে আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ। যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটই জয়ী হলো। এখন নজর মাঠের লড়াইয়ে, যেখানে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখোমুখি হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচে।