বাংলাদেশে গত পাঁচ বছরে হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা থামেনি, বরং ২০২৫ সালেই সর্বোচ্চ হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, ক্ষমতার পালাবদল, রাজনৈতিক পরিবর্তন কিংবা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস—কোনোটিই হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা কমাতে পারেনি।
২০২১ সালে দেশে ৩ হাজার ২১৪টি হত্যা মামলা হয়। ২০২২ সালে সংখ্যা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ৩ হাজার ১২৬টিতে। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ২৩টি মামলা হলেও ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৪৩২টিতে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে হত্যা মামলা হয়েছে ১ হাজার ৫৭৩টি। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মামলা হয়েছে ৬২৬টি। তবে এর মধ্যে পুরোনো ঘটনার নতুন মামলা যুক্ত হয়েছে ১৫৮টি।
২০২৫ সালে পুরোনো ঘটনার মামলা নতুন করে নথিভুক্ত হয়েছে আরও ২৩০টি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভুক্তভোগীরা পূর্বে মামলা করার সুযোগ পাননি বা সাহস করেননি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই প্রকাশ্যে গুলি, কুপিয়ে হত্যা ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ঘাটতি স্পষ্ট। দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। তিনি মনে করেন, দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে, বিশেষ করে সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, আইনগত ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির মানসিকতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও পুরোনো শত্রুতার কারণে হত্যাকাণ্ড বাড়ছে। তবে আইনের প্রয়োগ যদি কঠোর হয় এবং রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া যায়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
পুলিশের অতিরিক্ত আইজি খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনেক পুরোনো হত্যাকাণ্ডের মামলা নতুন করে নথিভুক্ত হওয়ায় সংখ্যার দিক থেকে প্রবণতা কমছে না। তবে প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তেজনা বাড়লেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।