সর্বশেষ

ইয়াবাকাণ্ড

কক্সবাজারে অধিনায়কসহ র‍্যাব-১৫–এর ৩ শতাধিক সদস্যকে গণবদলি

জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০০:১৮
কক্সবাজারে অধিনায়কসহ র‍্যাব-১৫–এর ৩ শতাধিক সদস্যকে গণবদলি

ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মামলায় কম দেখানো, তথ্য গোপন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)-১৫–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসানসহ তিন শতাধিক সদস্যকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। যদিও র‍্যাবের মিডিয়া উইং বলছে, এটি নিয়মিত রদবদলের অংশ, তবে একাধিক সূত্র অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট তদন্তের ফলেই এই গণবদলি কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করছে।

 

র‍্যাব সূত্র অনুযায়ী, ১৯ নভেম্বর জারি করা দুটি প্রজ্ঞাপনে ১৯৮ ও ২০০ জন সদস্যকে বদলি করা হয়। পরে ২৭ নভেম্বর আরও ৭৪ জনকে স্থানান্তর করা হয়। তিন দফায় বদলিকৃত এই সদস্যদের বেশিরভাগই কক্সবাজার ও বান্দরবানে কার্যরত র‍্যাব-১৫–এর ছিলেন।

 

র‍্যাব মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেকাব চৌধুরী জানান, অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান এক বছর দায়িত্ব পালন করায় নিয়মিত প্রক্রিয়ায় সদর দপ্তরে যুক্ত হয়েছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল মোহাম্মদ নেয়ামুল হালিম খান পিএসসি।

 

দুটি বিতর্কিত অভিযান ও আত্মসাতের অভিযোগ নেপথ্যে

 

সূত্রগুলো বলছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন কুতুপালং এলাকায় গত ৭ সেপ্টেম্বর চালানো এক অভিযানে ৮৯ হাজার ৬০০ ইয়াবা ও প্রায় ১৬ লাখ টাকার নগদ উদ্ধার দেখানো হয়। অভিযানে আটজনকে পলাতক দেখানো হলেও মামলার এজাহারে তথ্য বিভ্রাট দেখা দেয়। বিশেষ করে যুবদল নেতা মোহাম্মদ সেলিমের নামের পরিবর্তে অন্য একজনের বাবার নাম ব্যবহার করা হয়, যা নিয়ে অভিযোগ ওঠে ষড়যন্ত্রের।

 

অভিযানটি নিয়ে আরও অভিযোগ— প্রকৃত উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা এক লাখের বেশি হলেও মামলায় কম দেখানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে র‍্যাব সদর দপ্তরের একটি দল নভেম্বরের শুরুতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

 

অন্যদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর টেকনাফের লেদা এলাকায় কথিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় জব্দ তালিকায় ‘ইটের টুকরা ও কাঠের লাঠি’ উল্লেখ করায় স্থানীয়ভাবে সমালোচনা ওঠে। উভয় অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক কামরুল হাসান, এবং তার ঘনিষ্ঠ টেকনাফ এফএস কমান্ডার কর্পোরাল ইমামকে এসব বিতর্কের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করছে বিভিন্ন সূত্র।

 

র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, “যে-ই অপরাধে জড়িত থাকুক, তদন্তের ভিত্তিতে শাস্তি অবশ্যই হবে।”

সব খবর