সর্বশেষ

যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে আর নেই

বিনোদন ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৩০
যাত্রাশিল্পী মিলন কান্তি দে আর নেই

বাংলাদেশের যাত্রাশিল্পের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব মিলন কান্তি দে আর নেই। শনিবার বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়ার ছনহরা গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

 

১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিলন কান্তি দে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি লেখালেখি শুরু করেন ১৯৭৩ সালে। তার প্রকাশিত রচনার সংখ্যা প্রায় দেড় শতাধিক। শুধু অভিনয় বা লেখালেখি নয়, তিনি শিক্ষক হিসেবেও নাট্যকলায় অবদান রেখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করেছেন তিনি।  

 

যাত্রাশিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিশেষ যাত্রা ব্যক্তিত্ব সম্মাননা (১৯৯৩) এবং বিশেষ যাত্রাশিল্পী সম্মাননা (২০২৩)। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (২০২২), ‘সিকোয়েন্স অ্যাওয়ার্ড অব অনার’ (১৯৮৬), অমলেন্দু বিশ্বাস স্মৃতিপদক, আন্তর্জাতিক ইবসেন অ্যাডওয়ার্ড (২০০৯), নাট্যচক্র সম্মাননা (২০১৬) এবং প্রত্যয় শিল্প ও সাংস্কৃতিক একাডেমি চট্টগ্রাম সম্মাননা (২০২২) অর্জন করেন।  

 

তার মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যাত্রাশিল্পে তার অবদানকে স্মরণ করে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা বলছেন, মিলন কান্তি দে ছিলেন একাধারে শিল্পী, লেখক ও শিক্ষক। তার সৃষ্টিশীলতা ও অবদান প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।  

 

বাংলাদেশের যাত্রাশিল্পের ইতিহাসে মিলন কান্তি দে এক উজ্জ্বল নাম হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে দেশ হারালো একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী, যিনি জীবনভর যাত্রা ও নাট্যকলাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

সব খবর