সর্বশেষ

ঈদের পর মঞ্চে আসছে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’

বিনোদন ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০৭
ঈদের পর মঞ্চে আসছে ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’

ঈদের পর দর্শকদের জন্য মঞ্চে আসছে নাটক ‘দোজখের শেষ মেয়েটি’। নাট্যদল ‘নাট্যধারা’র প্রযোজনায় এবং আশীষ খন্দকারের নির্দেশনায় নাটকটি মঞ্চায়িত হবে শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে। সম্প্রতি সেখানে নাটকটির কারিগরি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

 

নাটকটি রচনা করেছেন আনিসুর রহমান। এর মূল প্রেরণা ইরাকের ইয়াজিদি নারী নাদিয়া মুরাদের জীবনকাহিনি। আইএস সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে যৌনদাসী হিসেবে বন্দি থাকার পর পালিয়ে বেঁচে ওঠার বাস্তব অভিজ্ঞতা নাটকের কেন্দ্রীয় বিষয়। তবে নাটকটি কেবল নাদিয়ার ব্যক্তিগত কাহিনীতে সীমাবদ্ধ নয়; এতে যুদ্ধ, রাষ্ট্ররাজনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ক্ষমতার রাজনীতি ও মানবিক বিপর্যয়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটও উঠে এসেছে।  

 

নির্দেশক আশীষ খন্দকার বলেন, “যুদ্ধের আবহ পৃথিবীতে সব একই রকম, সন্ত্রাসের ব্যাকরণও একই রকম। মানবতাবাদী মানুষের আর্তিই হচ্ছে নাদিয়া। তার আকুতি—‘শান্তি ফিরিয়ে দাও, দোজখের আগুন নেভাও, ফুল ফোটাও’। নাদিয়া শুধু একটি আত্মজীবনী নয়, এটি পূর্ণ সত্য ইতিহাস। শেষ পর্যন্ত নাদিয়া তার নিজের কালজয়ী ইতিহাসকে আলোকিত করেছে, আর সেখানে আমরা আমাদের আবিষ্কার করেছি। যুদ্ধ যেন এক প্রথা, সব কালে সব দেশে একই রকম। নাদিয়ার আয়নায় আসুন আমরা আমাদের খুঁজি।”  

 

নাট্যকার আনিসুর রহমান বলেন, “আশীষ খন্দকারের নির্দেশনায় নাটকটি দেখার পরে সবার মনে প্রশ্ন উদয় হবে। নাটকটি মঞ্চে আনার সাহসী পদক্ষেপের জন্য নাট্যধারার নীতিনির্ধারক ও প্রতিভাবান নাট্যশিল্পীসহ সকল কলাকুশলীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”  

 

নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মো. কামাল হোসেন, ফাহমিদা রহমান তৃষা, রিয়াদ মাহমুদ, হাফসা আক্তার, মো. আব্দুল আজিজ, রহিম পারভেজ, সোহেল আমীর, মো. রফিকুল ইসলাম, আল হাছিবুর রহমান, জাহাঙ্গীর সিকদার, ইমতিয়াজ আহমেদ দুলু, আমজাত হোসাইন ও নুরুন নাহার মৌ।

 

নাটকের সংগীত ও পোশাক পরিকল্পনায় রয়েছেন আশীষ খন্দকার। সহযোগী নির্দেশক হিসেবে রয়েছেন রিয়াদ মাহমুদ। মঞ্চ ও আলো পরিকল্পনা করেছেন পলাশ সেন হেনরী।

 

‘দোজখের শেষ মেয়েটি’ শুধু একটি নাটক নয়, বরং মানবতার প্রতি এক গভীর আহ্বান। নাদিয়া মুরাদের জীবনের করুণ অভিজ্ঞতা দর্শকদের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি এটি যুদ্ধ ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার রাজনীতি এবং মানবিক বিপর্যয়ের প্রতিচ্ছবি। নাটকটি দর্শকদের মনে শুধু আবেগ নয়, প্রশ্নও জাগাবে—আমরা কি সত্যিই শান্তির পৃথিবী গড়তে পারছি?

 

ঈদের পর নাটকটি মঞ্চে আসার অপেক্ষায় রয়েছে নাট্যপ্রেমীরা। এটি নিঃসন্দেহে সমসাময়িক সময়ের অন্যতম সাহসী প্রযোজনা হিসেবে আলোচনায় থাকবে।

সব খবর