চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশের রপ্তানি খাত নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানি হয়েছে ২৩.৯৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। এ হিসেবে রপ্তানি কমেছে ২.১৯ শতাংশ।
জুলাই মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ইতিবাচক—২৪.৯ শতাংশ। কিন্তু আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। সর্বশেষ ডিসেম্বরে রপ্তানি কমেছে ১৪.২৫ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় তৈরি পোশাক খাতেই প্রবৃদ্ধি কমেছে ১৪.২৩ শতাংশ।
এ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ ও প্রভাব, যা অর্থনীতিকে শ্লথ করে দিয়েছে। জুলাই দাঙ্গা পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং বিনিয়োগে খরা অর্থনীতিকে দুর্বল করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি। প্রতিযোগী দেশ চীন ও ভারত কম দামে ইউরোপে পণ্য রপ্তানি করছে, ফলে বাংলাদেশ বাজার হারাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তা প্রত্যাহার, যা ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলেছে।
খাতভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাত সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রথম ছয় মাসে এ খাতে রপ্তানি কমেছে ২.৬৩ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যারে হ্রাস হয়েছে ৩.২২ শতাংশ এবং ওভেন গার্মেন্টসে ১.৯১ শতাংশ। কৃষিপণ্য রপ্তানি কমেছে ১০.৩০ শতাংশ, ম্যানুফ্যাকচার্ড পণ্য ২.০৫ শতাংশ, কাঠজাতীয় পণ্য ৩৩.৩৩ শতাংশ, হস্তশিল্প ১৫.৩৪ শতাংশ, তুলাজাতীয় পণ্য ১৬.০৩ শতাংশ এবং প্লাস্টিক পণ্য ৮.৮৩ শতাংশ।
তবে কিছু খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৬১ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যে ০.৩১ শতাংশ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে ২৬.১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
ইপিবি ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো আশা করছে, নির্বাচনের পর নতুন সরকার এলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ফিরবে এবং বিনিয়োগ বাড়বে। তখন রপ্তানি আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে।