সর্বশেষ

আইএমএফের নতুন শর্তে সীমিত হলো বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ গ্রহণ

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১৭:২৬
ঋণ-জিডিপি অনুপাতের ক্ষেত্রে গত দেড় দশক বাংলাদেশ ধারাবাহিক সফলতা প্রদর্শন করে আসলেও (২০১৮ সালে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২৫.৭) গত অর্থবছর থেকে তা বাড়তে শুরু করেছে এবং বিশ্লেষকদের আশঙ্কা ২০৩০ সাল নাগাদ ৪৪ ছুঁয়ে ফেলবে।
আইএমএফের নতুন শর্তে সীমিত হলো বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ গ্রহণ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ গ্রহণের ওপর সীমারেখা নির্ধারণ করেছে। চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ নিতে পারবে। প্রথম ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ ১.৯১ বিলিয়ন ডলার এবং প্রথমার্ধে ৩.৩৪ বিলিয়ন ডলার নেওয়া যাবে।

 

আইএমএফ প্রতি তিন মাসে বিদেশি ঋণ পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের ঋণ নীতি এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর সরাসরি চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

আইএমএফ ২০২৩ সালে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ অনুমোদনের সময় কোনো শর্ত ছিল না। জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি অনুমোদনের মাধ্যমে ঋণের পরিমাণ ৮০০ মিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মেয়াদও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ এই ঋণ প্রোগ্রাম থেকে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।

 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের সর্বশেষ ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণের (Debt Sustainability Analysis, DSA) ওপর ভিত্তি করে নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই বিশ্লেষণে বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ‘মধ্যম ঝুঁকি’র দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে দেশটি ছিল ‘কম ঝুঁকি’ শ্রেণিতে। অর্থাৎ, রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়েছে।

 

DSA অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের ঋণ ও রপ্তানির অনুপাত ১৬২.৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পূর্বনির্ধারিত ১১৬-১১৮ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি। ঋণ ও রাজস্ব অনুপাতও বেড়েছে। এজন্য সরকারের নতুন ঋণ গ্রহণ ক্ষমতা কমানো হয়েছে।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সতর্কবার্তা। বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিদেশি ঋণ ও জিডিপির অনুপাত এবং বৈদেশিক রিজার্ভের চ্যালেঞ্জের কারণে আইএমএফ এখন বাংলাদেশের ঋণ নীতি নিয়ে কঠোর নজর দিচ্ছে।’

 

সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। আইএমএফের এই পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য সতর্কতা হিসেবে এসেছে। ঋণ ও ঋণপরিশোধের বোঝা বেড়েছে, তাই ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা সীমিত করা প্রয়োজন।’

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছিল ২০.৩ বিলিয়ন ডলার; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৮ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালের জুনে পৌঁছেছে ৮০.১৯ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন ঋণ নেওয়া হয়েছে ৮.৩২ বিলিয়ন ডলার। তবে ঋণ-জিডিপি অনুপাতের ক্ষেত্রে গত দেড় দশক বাংলাদেশ ধারাবাহিক সফলতা প্রদর্শন করে আসলেও (২০১৮ সালে ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২৫.৭) গত অর্থবছর থেকে তা বাড়তে শুরু করেছে এবং বিশ্লেষকদের আশঙ্কা ২০৩০ সাল নাগাদ ৪৪ ছুঁয়ে ফেলবে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন বিধি অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য অর্থনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করবে। দেশের রাজনীতি অস্থিরতায় এই পরিস্থিতি ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমিত ঋণ নেওয়ার কারণে বড় মেগা প্রকল্পের তহবিল সংগ্রহেও প্রভাব পড়তে পারে।

 

অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই অবস্থায় আইএমএফের নতুন শর্ত দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও সরকারের বাজেট পরিচালনায় আরও সতর্কতা আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

জাতিসংঘের মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে

প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস কমাল বিশ্বব্যাংক জাতিসংঘের মূল্যায়নে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশে

ভারত বয়কটের ডাক দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম অর্থবছর (২০২৪-২৫) ভারত বয়কটের ডাক দিয়ে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি

রপ্তানি কমতে কমতে ঋণাত্মক ধারায় চলছে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

অর্থবছরের প্রথমার্ধ শেষ রপ্তানি কমতে কমতে ঋণাত্মক ধারায় চলছে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ’ নিয়ে এনজিও খাতের উদ্বেগ

‘ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ’ নিয়ে এনজিও খাতের উদ্বেগ

ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ালো ৮.৪৯ শতাংশ

খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই প্রধান অনুঘটক ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ালো ৮.৪৯ শতাংশ

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে লেনদেন শুরু

টাকা তুলতে চরম ভোগান্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে লেনদেন শুরু

১২০০ টাকার এলপিজির জন্য গুণতে হচ্ছে ২০০০ টাকা

সরকারের উদাসীনতায় ভোক্তার নাভিশ্বাস ১২০০ টাকার এলপিজির জন্য গুণতে হচ্ছে ২০০০ টাকা

অর্থনীতির শুভ বছর আসবে কবে?

অর্থনীতির শুভ বছর আসবে কবে?