বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত টানা সাত মাস ধরে রপ্তানি সংকটে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে পোশাক রপ্তানি কমায় সামগ্রিক রপ্তানি আয় ৩.১৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.৯০ বিলিয়ন ডলার। আগের বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩২.৯৪ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারিতে পোশাক রপ্তানি আয় ১৩.২১ শতাংশ কমে ২.৮১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক আমদানি এখন মহামারির আগের স্তরে ফিরে গেছে। চাহিদা খুব বেশি বাড়ছে না, বরং প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। মার্কিন ক্রেতারা এখন ছোট অর্ডার দিচ্ছেন, দাম কমানোর চাপ বাড়াচ্ছেন এবং সময়মতো সরবরাহ ও শ্রম-পরিবেশ মানদণ্ডে কঠোর নজর দিচ্ছেন। এতে উৎপাদকদের লাভের মার্জিন কমে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, রপ্তানি আয় কমার ধারা জুন পর্যন্ত চলতে পারে। ব্যাংকিং সংকট ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শিল্পে বড় বাধা তৈরি করছে। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি কমেছে, অপ্রচলিত বাজারেও ভালো করা যায়নি। নির্বাচনের কারণে কাজের সময় কম এবং বন্দর বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে।
চীন এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী হলেও তাদের অংশীদারত্ব কমছে। শ্রম ব্যয় বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্র-চীন উত্তেজনা এবং ব্র্যান্ডগুলোর ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশল অন্য দেশগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। ভিয়েতনাম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে—আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ শ্রমিক এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুবিধায় তারা উচ্চমূল্যের পোশাক সেগমেন্টে শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশের শক্তি হলো বড় ভলিউমে উৎপাদন ও কম দাম। পাশাপাশি সবুজ কারখানা ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর আস্থা বাড়িয়েছে। তবে শুধু কম দামে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উৎপাদন দক্ষতা, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, দ্রুত সরবরাহ এবং টেকসই মানদণ্ডে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
বিশ্ববাজারে এখন চাহিদা সীমিত হলেও প্রতিযোগিতা বহুমাত্রিক। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং মধ্য আমেরিকার দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ফলে আগামী দিনে যে দেশ প্রযুক্তি, দক্ষতা ও টেকসই উৎপাদনে এগিয়ে যাবে, তারাই বাজারে নেতৃত্ব দেবে।