বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা এসেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে, এ সময় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে। এটি গত পাঁচ অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এর আগে সাময়িক হিসাবে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তবে চূড়ান্ত হিসাবে তা আরও কমে যায়। আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ, যা তখন চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোভিড-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের মধ্যে ২০২৪ সালের আন্দোলন, অবরোধ, সংঘাত ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখার মতো ঘটনাগুলো অর্থনীতিকে স্থবির করে দেয়। এর প্রভাব পুরো অর্থবছর জুড়ে প্রবৃদ্ধিতে দেখা গেছে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যেখানে আগের বছর একই সময়ে তা ছিল ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।
বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির সঙ্গে বিনিয়োগের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এদিকে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। আগের অর্থবছরে তা ছিল ২ হাজার ৭৩৮ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ৩১ ডলার। তবে সাময়িক হিসাবে মাথাপিছু আয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৮২০ ডলার, যা চূড়ান্ত হিসাবে কমে গেছে ৫১ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় রয়ে গেছে ২০২১-২২ অর্থবছরের ২ হাজার ৭৯৩ ডলার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিনিয়োগে ধীরগতি প্রবৃদ্ধি কমার মূল কারণ। তারা বলছেন, অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হলে বিনিয়োগ বাড়ানো, উৎপাদনশীল খাতকে সক্রিয় করা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি।