যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত পাল্টা শুল্কসংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেশে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক শুল্কমুক্তভাবে তাদের বাজারে প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এর বিনিময়ে বাংলাদেশকে বছরে প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য কিনতে হবে। অর্থাৎ, শুল্কছাড়ের নামে আসলে বাংলাদেশের ওপর নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অতিরিক্ত ১৫০ কোটি ডলার মূল্যের কৃষিপণ্য আমদানি করতে হবে। এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কমানো সম্ভব হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলা, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই চুক্তি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য কিছুটা সুবিধা বয়ে আনলেও কৃষি খাতের জন্য এটি বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানি করলে স্থানীয় কৃষকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবেন না। গম, ভুট্টা কিংবা সয়াবিনের মতো পণ্যে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হবে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গ্রামীণ অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপরও চাপ বাড়বে। বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকার কৃষিপণ্য কিনতে হলে রিজার্ভ থেকে বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ করতে হবে। এতে দেশের আমদানি-রপ্তানি ভারসাম্য আরও নাজুক হয়ে পড়তে পারে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ হাজার ৫০০টি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে প্রবেশের সুবিধা দেবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বাস্তবে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকই প্রধান রপ্তানি পণ্য। অন্য পণ্যগুলোতে প্রবেশাধিকার থাকলেও সেগুলোর চাহিদা সীমিত। ফলে শুল্কছাড়ের সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলেও এর বিনিময়ে কৃষিপণ্য আমদানির বাধ্যবাধকতা বাংলাদেশের জন্য শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া কিছু নয়। কারণ, পোশাক খাতের সুবিধা সীমিত হলেও কৃষি খাতের ক্ষতি হবে দীর্ঘমেয়াদে।