এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে গঠিত হয়েছে নতুন প্রতিষ্ঠান—সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। বৃহস্পতিবার থেকে ব্যাংকটির স্বাভাবিক লেনদেন শুরু হলেও সব শাখায় গ্রাহকরা টাকা তুলতে পারেননি।
বিভিন্ন শাখায় নতুন সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও পুরোনো নামও আপাতত থাকছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ধাপে ধাপে সব শাখায় নাম পরিবর্তন সম্পন্ন হবে।
রামপুরার বনশ্রীতে এক্সিম ব্যাংকের শাখায় এইচ রহমান নামে এক গ্রাহক বলেন, “ব্যাংকে টাকা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন থেকে তুলতে পারছি না। বৃহস্পতিবার থেকে টাকা উত্তোলনের কথা শুনে এসেও ফিরে যেতে হচ্ছে।”
একই চিত্র দেখা গেছে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, ধানমন্ডি, মিরপুর ও মহাখালী শাখায়। ধানমন্ডি শাখার ম্যানেজার রেজয়ান হাসান জানান, “ফান্ড না আসায় আমরা স্বল্প পরিমাণ অর্থ দিয়েছি। আশা করছি, এই সপ্তাহ থেকে নিয়মিত টাকা দিতে পারব।”
মহাখালী শাখায় অবশ্য কিছু গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পেরেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় একটি রেজল্যুশন স্কিম চূড়ান্ত করেছে।
- যাদের হিসাবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে, তারা একবারে পুরো অর্থ তুলতে পারবেন।
- যাদের জমা ২ লাখ টাকার বেশি, তারা প্রতি তিন মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা করে দুই বছর পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন।
- ৬০ বছরের বেশি বয়সি ও গুরুতর রোগে আক্রান্ত গ্রাহকদের জন্য রয়েছে মানবিক বিবেচনায় বিশেষ ছাড়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পাঁচ ব্যাংকের সব সম্পদ, দায়-দেনা ও চুক্তি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রাহকদের নতুন কোনো চেকবই বা কাগজপত্র নিতে হবে না। আগের ব্যাংকের নামে ছাপানো চেকবই, ডিপোজিট স্লিপ, ভাউচার ও অন্যান্য দলিলই এখন বৈধ।
স্থায়ী আমানত নির্ধারিত সময়ের আগে ভাঙা যাবে না। তবে বিদ্যমান আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২০% এবং নতুন আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮০% পর্যন্ত ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের যাত্রা শুরু হলেও গ্রাহকদের জন্য তা এখনও স্বস্তির নয়। টাকা তুলতে গিয়ে অনেকেই ফিরে গেছেন, কেউ পেয়েছেন সীমিত পরিমাণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী রবিবার বা সোমবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে ব্যাংকিং আস্থার পুনঃস্থাপনে কার্যকর বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি।