রোজার মাসের প্রায় এক মাস আগে রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে। চিনি, ডাল ও পুরোনো চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে গত সপ্তাহে বেড়ে যাওয়া ডিম ও বেশির ভাগ শীতকালীন সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও নাখালপাড়া বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১৫ থেকে ২০ দিনে চিনির কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার পর খোলা চিনির দাম এক পর্যায়ে কেজিতে ৯০ টাকায় নেমে এলেও বর্তমানে তা আবার ১০০ টাকায় উঠেছে। প্যাকেট চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা দরে।
ডালজাতীয় পণ্যের মধ্যে অ্যাংকর ডালের দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। কারওয়ান বাজারের ইয়াসিন জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মনোয়ার হোসেন জানান, পাইকারি বাজারে চিনির ৫০ কেজির বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং অ্যাংকর ডালের ২৫ কেজির বস্তায় ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে। তবে ছোলার বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে; কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।
চালের বাজারে নতুন আমন মৌসুমের চাল আসতে শুরু করলেও পুরোনো চালের দাম বেড়েছে। নতুন মাঝারি চাল (বিআর-২৮, বিআর-২৯ ও পাইজাম) কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। একই মানের পুরোনো চাল কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। সরু চাল (মিনিকেট) মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৮২ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগেও দুই থেকে তিন টাকা কম ছিল। মোটা চাল (চায়না ইরি) কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকায়, যেখানে স্বাভাবিক দামে তা থাকার কথা ৫০ থেকে ৫২ টাকা। নাখালপাড়ার মুদি দোকানদার হেলাল মিয়া বলেন, নতুন চাল এলেও ক্রেতারা পুরোনো চাল বেশি পছন্দ করায় এর দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে।
অন্যদিকে ভোজ্যতেলের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল। বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও খোলা তেলে সামান্য টান রয়েছে। মেঘনা গ্রুপের জ্যেষ্ঠ সহকারী মহাব্যবস্থাপক তাসলিম শাহরিয়ার জানান, গ্যাস সংকটে উৎপাদনে কিছুটা চাপ থাকলেও বাজারে তেল ও চিনির সরবরাহ নিয়মিত রয়েছে।
মুরগির বাজারে দীর্ঘদিন পর দাম কিছুটা বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭৫ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা দরে। তবে ডিমের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা এবং সাদা ডিমের ডজন ১০০ টাকায়।
শীতকালীন সবজির বাজারেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা ভোক্তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
শুক্রবার রাজধানীর রায়েরবাগ, শনির আখাড়া ও সেগুনবাগিচার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, টমেটো, শিম, লাউ, শালগম ও বেগুনের মতো শীতের পরিচিত সবজির দাম হঠাৎ বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নলডাঙা শিম কেজিতে ৬০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়। শালগমের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। দেশি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৮০–৯০ টাকা।
বিক্রেতারা শীত ও সরবরাহ সংকটকে কারণ হিসেবে দেখালেও ক্রেতারা এসব ব্যাখ্যাকে ‘অজুহাত’ বলছেন। শনির আখাড়া বাজারে ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, “শীতে সবজি সস্তা থাকার কথা। এখন বলা হচ্ছে ঠান্ডায় ট্রাক আসছে না—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”