সর্বশেষ

ভোক্তাদের নাভিশ্বাস

রোজার এক মাস আগেই বাজার চড়া

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৬
রোজার এক মাস আগেই বাজার চড়া

পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনও প্রায় এক মাস বাকি। কিন্তু এর আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, চিনি, ডাল, ছোলা ও আদার দাম গত এক সপ্তাহে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এবার রমজান উপলক্ষ্যে আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ পণ্য আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে খোলা এলসি অনুযায়ী পণ্য আসতে শুরু করেছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাসে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে।

 

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ছোলার দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৭০ থেকে ৭৫ টাকা হয়েছে। অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ চিনি ৩,৫০০ টাকা এবং পাম অয়েল ৫,৯৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ও রসুনের দামও বেড়েছে। এর প্রভাব ইতিমধ্যে খুচরাবাজারে পড়তে শুরু করেছে। টিসিবির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজধানীর বাজারেও সয়াবিন, পাম অয়েল ও আদার দাম বাড়ছে।

 

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, প্রতি বছরই রমজানের আগে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়ায়। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়ে। কনজ্যুমারস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, রমজানকে টার্গেট করে ব্যবসায়ীরা মুনাফা করছে। পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়ছে, কারণ বাজারে কোনো মনিটরিং নেই। তাঁর মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে কঠোর নজরদারি করতে হবে।  

 

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে শতাধিক জাহাজে ৪৫ লাখ টনের বেশি ভোগ্যপণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে গম, ভুট্টা, সয়াবিন, ছোলা, ডাল, ভোজ্য তেল ও চিনি রয়েছে। নাবিল গ্রুপের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লাইটার জাহাজের সমস্যার কারণে ছোলা, গম, মসুর ও মটর ডাল খালাস আটকে আছে। দ্রুত খালাস না হলে রমজানের আগে বাজারে সরবরাহ সংকট আরও বাড়বে।  

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের আমদানির জন্য বিপুল এলসি খোলা হয়েছে। সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে আমদানি বেড়েছে ৩৬ শতাংশ, চিনিতে ১১ শতাংশ, মসুর ডালে ৮৭ শতাংশ, ছোলায় ২৭ শতাংশ, মটর ডালে ২৯৪ শতাংশ এবং খেজুরে ২৩১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ৬.২৯ বিলিয়ন ডলার এবং অক্টোবরে ৫.৬৪ বিলিয়ন ডলারের এলসি খোলা হয়েছে।  

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, ভোজ্য তেল, চিনি, ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আমদানিতে শুল্ক ও কর যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা হয়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় কমবে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ভোক্তারা এখনো এর সুফল পাচ্ছেন না।  

রোজার আগে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবার পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও বন্দরের জটিলতা ও মনিটরিংয়ের অভাবে দাম বাড়ছে। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে রমজানে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি মূল্যচাপের মুখে পড়তে হবে।

সব খবর

আরও পড়ুন

নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউনূস সরকারের ‘গোপন’ শুল্ক চুক্তি

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউনূস সরকারের ‘গোপন’ শুল্ক চুক্তি

বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি

অচল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি

কমতে কমতে তলানিতে বিদেশি বিনিয়োগ

ক্ষতবিক্ষত বেসরকারি খাত কমতে কমতে তলানিতে বিদেশি বিনিয়োগ

বেতন বৃদ্ধির বাস্তবতা: কার স্বস্তি, কার চাপ

বেতন বৃদ্ধির বাস্তবতা: কার স্বস্তি, কার চাপ

দোসর খোঁজার নামে বিপর্যস্ত বেসরকারি খাত

বিনিয়োগে ইতিহাস সর্বোচ্চ মন্দা দোসর খোঁজার নামে বিপর্যস্ত বেসরকারি খাত

ব্যয়সাশ্রয়ী নীতির ঘোষণা দিয়ে উল্টো পথে অন্তর্বর্তী সরকার

ব্যয়সাশ্রয়ী নীতির ঘোষণা দিয়ে উল্টো পথে অন্তর্বর্তী সরকার

গাজীপুর ও সাভারে বন্ধ ৩২৭ কারখানা, কর্মহীন দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক

গাজীপুর ও সাভারে বন্ধ ৩২৭ কারখানা, কর্মহীন দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক

চমক নয়, ব্যর্থতার হিসাবই বড় হয়ে উঠছে বিডার সামনে

নতুন আশা নেই বিনিয়োগে চমক নয়, ব্যর্থতার হিসাবই বড় হয়ে উঠছে বিডার সামনে