দেশে চলমান মূল্যচাপ আরও তীব্র হয়েছে সদ্য সমাপ্ত বছরের ডিসেম্বর মাসে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৪৯ শতাংশ। আগের মাস নভেম্বরে এই হার ছিল ৮.২৯ শতাংশ এবং অক্টোবর মাসে ছিল ৮.১৭ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩২ বেসিস পয়েন্ট।
সোমবার প্রকাশিত বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিসেম্বরের মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির পেছনে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। সাধারণত শীত মৌসুমে সবজির সরবরাহ বাড়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমার কথা থাকলেও এবার বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। এক মাসের ব্যবধানে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি ৩৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৭১ শতাংশে, যা নভেম্বরে ছিল ৭.৩৬ শতাংশ।
তবে বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, বছরওয়ারি হিসাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১২.৯২ শতাংশ, যা বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমেছে। তবুও সাম্প্রতিক মাসিক ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
খাদ্যবহির্ভূত খাতেও মূল্যস্ফীতি বাড়তির দিকে। ডিসেম্বর মাসে নন-ফুড খাতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ শতাংশ, যা নভেম্বরে ছিল ৯.০৮ শতাংশ। যদিও গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই হার ছিল ৯.২৬ শতাংশ, তবুও জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা ও অন্যান্য সেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক বছর আগে যে পণ্য ও সেবার জন্য ১০০ টাকা খরচ হতো, ডিসেম্বর ২০২৫-এ তার জন্য গুনতে হয়েছে ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি স্থায়ী হলে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।