বেসরকারি স্কুল-কলেজ এমপিওভুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাত্র আট দিনে ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই করে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় বর্তমান সরকার সেই তালিকা বাতিল করে নতুন করে আবেদন আহ্বান ও যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তড়িঘড়ি করে করা যাচাই-বাছাইয়ে অনেক অযোগ্য প্রতিষ্ঠান তালিকায় ঢুকে পড়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানভেদে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়েছে। কোথাও কোথাও শিক্ষক প্রতি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে যে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক বেশি, সেখানে ঘুষের পরিমাণও বেশি ছিল। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোরই শিক্ষার্থী সংখ্যা ও একাডেমিক মানদণ্ড ছিল না।
জাতীয় সংসদে এমপিওভুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন করে আবেদন নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে প্রাপ্ত আবেদনগুলোও পুনরায় যাচাই করা হবে। আগামী অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের সাপেক্ষে এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে।
দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২২ হাজার ১৭৪টি। এর মধ্যে গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৮০৭টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসিক বেতন ও ভাতা সরকার থেকে পান। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমপিওভুক্তি শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখে। নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নেও এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করা তালিকা নিয়ে সমালোচনা থামেনি। মাত্র আট দিনে বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই করে তালিকা তৈরি করাকে ‘রকেট গতির’ প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, এত দ্রুত যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। ফলে অযোগ্য প্রতিষ্ঠান তালিকায় ঢুকে পড়েছে।