বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) মিডিয়া বিভাগের পরিচালক পদে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল এখনও প্রকাশ করা হয়নি, যদিও লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৪ সালের ৩১ মে। এক বছর আট মাস পেরিয়ে গেলেও ফলাফল অনিশ্চিত, অথচ একই পদের একজন পরীক্ষার্থীকে ইতোমধ্যে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মিডিয়া বিভাগের পরিচালক পদে সাতজন আবেদন করেছিলেন। লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন দুইজন— আসলাম শিকদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম-পরিচালক শরীফ মো. শাহাবুদ্দীন। গাজীপুর ক্যাম্পাসে উপাচার্য অফিসের মিটিং হলে অনুষ্ঠিত হয় লিখিত পরীক্ষা।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২১ আগস্ট শরীফ মো. শাহাবুদ্দীনকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে এবং লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।
আসলাম শিকদার, যিনি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন দ্রুত ফল প্রকাশের জন্য। এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার আবেদন আমলে নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
আসলাম বলেন, “আমরা যে পদের জন্য পরীক্ষা দিয়েছি, সেই পদেরই একজন পরীক্ষার্থীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছেন। এ ধরনের কালক্ষেপণ আমাদের মাঝে হতাশা ও প্রশ্ন তৈরি করছে।”
নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১২ মার্চ। পরে ২০২২ সালের ২৩ জুন দ্বিতীয়বার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আরও আবেদন আহ্বান করা হয়। অন্যান্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন হলেও মিডিয়া পরিচালক পদে এখনও কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বাউবির বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “আমার নিয়োগের আগেই ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র আমার হাতে নেই। আগের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার চলে গেছেন। কাগজপত্র পেলে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, না পেলে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।”
এই দীর্ঘসূত্রিতা ও স্বচ্ছতার অভাব নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থীরা ফল প্রকাশ ও মৌখিক পরীক্ষার দাবি জানালেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।