ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে সন্ধ্যার পর নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিকাল পাঁচটার পর মাঠে ঢুকতে চাইলে গেটম্যানরা তাদের আটকে দেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা ডাকসুতেও অভিযোগ জানালেও এখনো কোনো স্পষ্ট সমাধান আসেনি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু—উভয় পক্ষই দাবি করেছে, নারী শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর কেন্দ্রীয় মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গেটম্যানরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে বা ‘মুরুব্বিয়ানার’ মনোভাব থেকে এমন আচরণ করে থাকতে পারেন।
মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারেহা তুল ফারাহ বলেন, সন্ধ্যায় হাঁটতে গেলে গেটম্যান তাকে জানান যে পাঁচটার পর নারী শিক্ষার্থীদের মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং এটি ডাকসু ও প্রশাসনের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণ জানতে চাইলে কোনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। তার দাবি, একাধিক নারী শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই একই ঘটনা ঘটেছে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজির হোসেন বলেন, অনেক সময় গেটম্যানরা প্রক্টরিয়াল টিমের চেয়েও বেশি ক্ষমতা দেখান। এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে প্রশাসন ও ডাকসুর উচিত গেটম্যানদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া এবং যদি কোনো বিধিনিষেধ থাকে, তা লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো।
ডাকসুর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা জানান, এই ‘কথিত কারফিউর’ বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মাঠে প্রতীকী কর্মসূচির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পর কী করতে পারবেন বা পারবেন না—এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।
ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, কেন্দ্রীয় মাঠ ও জিমনেসিয়াম ব্যবহারে কোনো নতুন নিয়ম চালু হয়নি। আগের নিয়মেই নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীরা মাঠ ব্যবহার করতে পারছেন।
ঢাবির সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা জিমনেসিয়াম কর্তৃপক্ষ নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। গেটম্যানরা এমন কথা বলে থাকলে তা তাদের এখতিয়ারের বাইরে এবং ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা হতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা জারি হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।