আগামী জানুয়ারি থেকে দেশের এক লাখ ১৮ হাজারের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই কোটি শিক্ষার্থী নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির আওতায় আসছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সম্প্রতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য যে নির্দেশিকা প্রণয়ন করেছে, তাতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা যুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে এই নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিভাবকরা আশঙ্কা করছেন, শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে এবং কোচিং নির্ভরতা বাড়বে। অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষকদের হাতে বেশি নম্বর রাখলে ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেবে। একজন অভিভাবক সরকারের সিদ্ধান্তকে হঠকারী উল্লেখ করে বলেন, “শিশুদের পরীক্ষা ও মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা নিয়ে চাপ তৈরি করা ছাড়া কিছুই নয়।”
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি মাত্র ১০ মাসের জন্য চালু থাকবে, কারণ ২০২৭ সালে নতুন কারিকুলাম কার্যকর হবে। এ অবস্থায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ ছাড়া হঠাৎ করে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচন ও রোজার কারণে পাঠদান কার্যক্রম দুই মাস বন্ধ থাকবে, ফলে কার্যকর শিক্ষাদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ বলেন, “পরীক্ষাকে এত বেশি গুরুত্ব দেওয়া, সব কিছু পরীক্ষাকেন্দ্রিক করা ঠিক নয়। এতে শিক্ষার্থীদের সমস্যা বাড়বে।” শিক্ষা গবেষক কে এম এনামুল হকও ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরীক্ষা বাদ দিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতির দিকে যাওয়া উচিত।”
এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য রিয়াদ আহমেদ জানান, তিনি দায়িত্ব পাওয়ার আগে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা ৩৫, ইংরেজি ৩০ এবং গণিত ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় বাংলা ১৫, ইংরেজি ২০ এবং গণিত ১০ নম্বর। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা ও ইংরেজিতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০, লিখিত ৫৫ এবং মৌখিক/ব্যবহারিক ১৫ নম্বর। গণিত, বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং ধর্ম বিষয়ে ধারাবাহিক ৩০, লিখিত ৬০ এবং মৌখিক/ব্যবহারিক ১০ নম্বর।
শিক্ষা মহলের মতে, হঠাৎ করে নতুন মূল্যায়ন চালু করলে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়বে এবং অভিভাবকদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হবে। তাই ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও শিক্ষক প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।