সর্বশেষ

বিদায়বেলায় ‘রকেট গতিতে’ এমপিও

ঘুষ–বাণিজ্যের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা মন্ত্রণালয়

প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৫৩
ঘুষ–বাণিজ্যের অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে বাকি মাত্র দুই কর্মদিবস। এই শেষ সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন তৎপরতা। বছরের পর বছর ফাইলবন্দি থাকা সিদ্ধান্তগুলো হঠাৎ করেই চূড়ান্ত করার দৌড়ঝাঁপ চলছে—এর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ। একই সঙ্গে শিক্ষা আইন পাস, শীর্ষ প্রশাসনিক পদে পদায়ন ও নিয়োগ–বদলির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে, যা সাধারণত রাজনৈতিক সরকারের এখতিয়ার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। তবে এত স্বল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া ঘিরে বড় ধরনের অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানভেদে ১২ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ঘুষ’ নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে প্রথমবার এমপিওভুক্ত হতে যাওয়া অনার্স ও মাস্টার্স স্তরের কলেজগুলোতে এই লেনদেন বেশি।

 

১৪ থেকে ২৫ জানুয়ারি—মাত্র আট দিনে ৩ হাজার ৬১৫টি আবেদন যাচাইয়ের দাবি করেছে মন্ত্রণালয়, যা বাস্তবে অসম্ভব বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরাই। একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, শিক্ষার্থী সংখ্যা, ফলাফল, সম্পত্তি—এসব যাচাই করতে সময় লাগে। দিনে গড়ে ৪৫২টি প্রতিষ্ঠান যাচাই করা অবাস্তব। যেগুলো টাকা দিয়েছে, সেগুলোই অগ্রাধিকার পেয়েছে।”

 

অভিযোগ রয়েছে, ১১ সদস্যের কমিটির অনেকেই বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও উপদেষ্টার দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা গোপনে তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। পটুয়াখালীর একটি কলেজ থেকে শিক্ষকপ্রতি ৩ লাখ টাকা তোলার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে ‘সিন্ডিকেট’ সক্রিয়।

 

এদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে শুধু স্কুল–কলেজ এমপিওভুক্তির চেষ্টা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিতর্কের মুখে কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগ ইতোমধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে।

 

শুধু এমপিও নয়, শেষ সময়ে শিক্ষা আইন পাসের তৎপরতাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০১১ সাল থেকে আলোচিত আইনটি বারবার সংশোধন ও আপত্তির মুখে আটকে থাকলেও এখন দ্রুত অনুমোদনের চেষ্টা চলছে। শিক্ষা অধিকার সংসদ, মূল্যবোধ আন্দোলন ও অভিভাবক সংগঠনগুলো বলছে, অংশীজনের মতামত ছাড়া এ ধরনের আইন প্রণয়ন অগ্রহণযোগ্য।

 

এ বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, “যে আইন ১৫ বছরেও চূড়ান্ত হয়নি, তা হঠাৎ করে কয়েক দিনে পাসের চেষ্টা অযৌক্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।”

 

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—বিদায়ের মুখে এমন তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?

সব খবর

আরও পড়ুন

সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের শিক্ষকদের বিবৃতি সব দলের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না

বই বিতরণে বিশৃঙ্খলা, নীতিতে স্থবিরতা, নেতৃত্বহীনতায় গভীর সংকট

শিক্ষা খাতে অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বৈব ব্যর্থতা বই বিতরণে বিশৃঙ্খলা, নীতিতে স্থবিরতা, নেতৃত্বহীনতায় গভীর সংকট

তীব্র শিক্ষক সংকটে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ

চাহিদার এক-ষষ্ঠাংশ পেলেন নিয়োগ সুপারিশ তীব্র শিক্ষক সংকটে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ

নতুন শিক্ষাবর্ষের এক মাসেও পাঠ্যবই সংকট কাটেনি

সিন্ডিকেটে আটকে ৩০ লাখ বই নতুন শিক্ষাবর্ষের এক মাসেও পাঠ্যবই সংকট কাটেনি

শিক্ষাসামগ্রীর দাম বেড়ে অভিভাবকদের ওপর চাপ

নিম্নবিত্তের শিশুদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা শিক্ষাসামগ্রীর দাম বেড়ে অভিভাবকদের ওপর চাপ

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ভরাডুবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ভরাডুবি

বাউবি মিডিয়া পরিচালক নিয়োগে অনিশ্চয়তা

দেড় বছরেও ফল প্রকাশ হয়নি বাউবি মিডিয়া পরিচালক নিয়োগে অনিশ্চয়তা

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে মবের চাপে শিক্ষক বহিষ্কারের পর এবার ক্লাস কার্যক্রম স্থগিত

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে মবের চাপে শিক্ষক বহিষ্কারের পর এবার ক্লাস কার্যক্রম স্থগিত