ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচন কিংবা গণভোট জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ‘নীল দল’। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এক প্রেস বিবৃতিতে সংগঠনটি এ উদ্বেগ ও দাবি জানায়।
বিবৃতিতে নীল দলের শিক্ষকরা বলেন, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ ছাড়া নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা জাতির সঙ্গে ‘প্রহসন ও প্রতারণার শামিল’ হবে। তাদের মতে, সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং জনগণের প্রকৃত মতামতের প্রতিফলন ঘটবে না।
সংগঠনটি জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বেশ কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় নির্বাচন কমিশন ও সরকার একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা মনে করে।
নীল দলের ভাষ্য অনুযায়ী, গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে হলে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। অন্যথায় দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একতরফা বা ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করবে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সিপিডি, টিআইবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও কৃষিবিদদের সংগঠনসহ বিভিন্ন থিংক ট্যাংক ও পেশাজীবী সংগঠন ইতোমধ্যে সরকারকে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের কনভেনার অধ্যাপক ড. আ. ক. ম. জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে সরকারকে একতরফা নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ থেকে সরে এসে অবিলম্বে সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানান শিক্ষকরা।