দেশজুড়ে শিক্ষক সংকটে ধুঁকছে শিক্ষা খাত। দীর্ঘদিন ধরে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সপ্তম বা বিশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফল প্রকাশ করেছে। এতে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন।
তবে মোট ৬৭ হাজার ২০৮টি শূন্যপদের বিপরীতে এত কম সংখ্যক নিয়োগ সুপারিশে শিক্ষাবিদরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। ফলে এখনও ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়ে গেছে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, একই বিষয়ে নিবন্ধিত প্রার্থী না থাকায় অনেক পদে সুপারিশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
এবার সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে স্কুল-কলেজে ৫ হাজার ৭৪২ জন, মাদ্রাসায় ৪ হাজার ২৫৫ জন, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩৫৪ জন, কারিগরি বিষয় চালু থাকা সাধারণ স্কুলে ১ হাজার ১৫৫ জন এবং কারিগরি বিষয় চালু থাকা মাদ্রাসায় ২০৭ জন প্রার্থী নিয়োগ সুপারিশ পেয়েছেন। নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে এবং টেলিটকের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে জানানো হচ্ছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি নিবন্ধনধারীরা নিয়োগে আবেদন করতে পারেন না। এছাড়া যাদের নিবন্ধন সনদ তিন বছরের বেশি সময় আগে পাওয়া, তারাও আবেদন করতে পারেননি। এই শর্তের কারণে প্রায় দেড় লাখ নিবন্ধনধারী প্রার্থী বারবার আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করছেন।
সম্প্রতি আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বাস দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে, কিন্তু বছরের পর বছর চাহিদামতো শিক্ষক সরবরাহ করতে পারছে না।