অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ বাংলাদেশ। সুবিশাল সুন্দরবন, পাহাড়ি সবুজ গালিচা, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত—সব মিলিয়ে পর্যটনের জন্য এক অনন্য সম্ভাবনাময় দেশ। কিন্তু এত ঐশ্বর্য থাকা সত্ত্বেও বিশ্ব পর্যটনে বাংলাদেশ এখনো প্রায় অচেনা। পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মাত্র ৬ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক পর্যটক বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন, যা প্রতিবেশী ভারত বা শ্রীলঙ্কার তুলনায় অনেক কম।
সিএনএনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নাম পশ্চিমা বিশ্বে বেশি আসে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে। ফলে দেশটির সঙ্গে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে। অথচ যারা বাংলাদেশে এসেছেন, তারা দেখেছেন এক ভিন্ন বাস্তবতা। ঢাকার বিশৃঙ্খল অথচ প্রাণবন্ত জীবন, বরিশালের ভাসমান পেয়ারা বাজার কিংবা শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান—সবই পর্যটকদের কাছে অনন্য অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশের পর্যটন বৈচিত্র্যের এক কোলাজ। পুরনো ঢাকার অলিগলি, বুড়িগঙ্গার তীরে কর্মচাঞ্চল্য, শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি ট্রেকিং, কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত এবং সুন্দরবনের গহিন অরণ্য—সবই বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে। তবে ইউটিউবার বা ব্লগাররা অনেক সময় নেতিবাচক বিষয় তুলে ধরায় দেশের ইতিবাচক দিক আড়ালে পড়ে যায়। স্থানীয় গাইডরা চান, বিশ্ববাসী যেন বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও অকৃত্রিম জীবনধারা দেখে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটও পর্যটন শিল্পের বড় বাধা। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও ভ্রমণ সতর্কতা অনেক পর্যটককে নিরুৎসাহিত করেছে। তবে অভিযাত্রী পর্যটকরা এসব ঝুঁকি সত্ত্বেও বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী।
পর্যটন উদ্যোক্তাদের মতে, বাংলাদেশ গণ-পর্যটন নয়, বরং প্রকৃত ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করতে চায়। কারণ অতিরিক্ত ভিড় হলে দেশের অকৃত্রিমতা হারিয়ে যাবে। পাহাড়, নদী আর মানুষের হাসি—এই খাঁটি বাংলাদেশই বিশ্বকে দেখাতে চায় তারা।