সর্বশেষ

দল ঘোষণা নিয়ে অস্বাভাবিক নীরবতা

এশিয়ান কাপে ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ নারী দল

ক্রীড়া ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৫১
এশিয়ান কাপে ইতিহাসের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ নারী দল

বাংলাদেশের ফুটবলে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আসছে। প্রথমবারের মতো নারী জাতীয় দল এশিয়ান কাপ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। মার্চের ১ তারিখ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হবে এই আসর। পুরুষ দল হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সামিত সোম, জায়ান আহমেদদের অন্তর্ভুক্ত করেও চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ মেয়েরা ইতিহাস গড়েছে।  

 

এত বড় অর্জনের পরও নারী দল নিয়ে যেন অদ্ভুত নীরবতা। ফুটবলপ্রেমীরা জানতে চাইছেন, কারা থাকবেন এই স্বপ্নের দলে। অথচ বাফুফে বা কোচ পিটার বাটলার এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাচ্ছেন না। জাতীয় স্টেডিয়ামে মেয়েরা অনুশীলন শুরু করলেও মিডিয়াকে তা জানানো হয়নি। নারী উইং কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণও এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।  

 

শোনা যাচ্ছে, কোচ বাটলার খেলোয়াড়দের নাম গোপন রাখতে চাইছেন। এর পেছনে কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে সাবিনা খাতুন ও মাসুরা পারভীনদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে দ্বিধা। সাফ ফুটসালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শিরোপা এনে দেওয়া এই খেলোয়াড়দের এশিয়ান কাপে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে।  

 

এশিয়ান কাপের মতো আসরে অভিষেক ঘটছে বাংলাদেশের মেয়েদের। তাই দল ঘোষণা নিয়ে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। ফুটবলপ্রেমীরা চান, সাবিনাদের মতো অভিজ্ঞরা সুযোগ পাক এবং নতুনদের সঙ্গে মিশে একটি প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে উঠুক। কিন্তু এখনো সবকিছু যেন অন্ধকারে।  

 

প্রশ্ন উঠছে, বাফুফে কেন এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে না। কেউ কেউ মনে করছেন, কোচের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করলে তিনি দায়িত্ব ছাড়তে পারেন—এই ভয়ে সংস্থাটি নীরব। অথচ জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে এভাবে লুকোচুরি করলে সমর্থকদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।  

 

বাংলাদেশ নারী দল এশিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে এটি দেশের ফুটবলের জন্য এক বিশাল অর্জন। কিন্তু দল ঘোষণা নিয়ে নীরবতা ও লুকোচুরি সমর্থকদের হতাশ করছে। ইতিহাসের অংশ হতে যাওয়া এই মেয়েদের নাম জানার অধিকার দেশের মানুষের আছে। স্বচ্ছতা ও স্পষ্টতা ছাড়া এই অর্জনের আনন্দ পূর্ণতা পাবে না।

সব খবর