রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মীদের মারধরের ঘটনায় চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
মঙ্গলবার রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযানে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা’ ঘটেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় একজন সাংবাদিক আগে থেকেই মাদকসেবীদের কাছে পৌঁছে যান। মাদকসেবীদের আটক করার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের চিনতে পারেননি, ফলে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার প্রেক্ষিতে চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে তাদের প্রত্যাহার করে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ডিসি মাসুদ আলমের নেতৃত্বে রমনা বিভাগের পুলিশ সদস্যরা উদ্যান এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের সময় সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় মাদকসেবীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং দুজন সংবাদকর্মীকেও মারধরের অভিযোগ ওঠে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ, আকাশ (এনপিবি নিউজ) ও কাওসার আহমেদ রিপন (আজকের পত্রিকা)। গুরুতর আহত তোফায়েল আহমেদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, ভোঁতা আঘাতের কারণে তার শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি রয়েছে।
রাতের অভিযানে মারধর ও পুলিশি হেনস্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাটি গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।